সাগর থেকে ফেরা
সাগর থেকে ফেরা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৫৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার ও ১৯৫৮ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে। প্রেমেন্দ্র মিত্রের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। 'ফেরারী ফৌজ' ও 'সাগর থেকে ফেরা' কাব্যগ্রন্থে মানুষকে অন্ধকার অতিক্রম করে সূর্যস্নাত সকালে পৌঁছে দেবার বলিষ্ঠ আশাবাদ বারবার ধ্বনিত হয়েছে।
বিষয়বস্তু ও শৈলী
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]হিংস্র সভ্যতার চক্রান্তে মানুষের ইতিহাস রক্তাক্ত ও ক্লেদাক্ত হয়, মনুষ্যত্বের সৈনিকেরা সংগ্রাম করেও হয়তো সাময়িকভাবে ব্যর্থ হয়, তবু সেই ব্যর্থ ফেরারী সৈনিকেরা আবার পূর্ণোদ্যমে ফিরে আসে প্রভাতের তপস্যাকে পূর্ণ করবে বলে। নীল নদীতট থেকে সিন্ধু উপত্যকা, সুমের, আক্কাদ বা হোয়াংহোর তীরে প্রেমেন্দ্র দেখেছেন মানুষের গড়ে ওঠার ইতিহাস। মানুষের এই উদ্যম ও আকাঙ্ক্ষাই বুকে নিয়ে কবি নৈরাশ্যের অন্ধকার পার হয়েছেন। কবির 'সংশপ্তক সেনা' প্রতি শতাব্দীতে অন্ধকারের ষড়যন্ত্র ভেঙে দিয়ে কালের দিগন্তে সূর্যকণা বয়ে নিয়ে আসে।
শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতার চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। এই কাব্যগ্রন্থেও সেই সুর অব্যাহত — পথের মানুষ, কামার-কাঁসারি-ছুতোরের জীবনসংগ্রাম এবং সমুদ্রের বিশালতার পটভূমিতে মানবজাতির প্রত্যাবর্তনের গল্প কবিতাগুলিকে সার্থক করে তুলেছে।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৭): এই কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রেমেন্দ্র মিত্র সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৫৮): পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদত্ত এই পুরস্কারও এই কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রাপ্ত।