মহাদেবী
মহাদেবী অভীক সরকার রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস, যার পটভূমি গুপ্তসাম্রাজ্যের উত্তাল রাজনৈতিক সময়।
মহারাজাধিরাজ সমুদ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর গুপ্তসাম্রাজ্যের শাসনভার তার যোগ্য মধ্যমপুত্র কুমার চন্দ্রগুপ্তকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চন্দ্রগুপ্ত তখন মালবদেশে কর্তব্যরত। সমুদ্রগুপ্ত প্রয়াত হলে রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র মাথা তুলে দাঁড়ায়। গুপ্তসাম্রাজ্যের এক বিশ্বাসঘাতক রাজপুরুষের হাত ধরে শকাধিপতি রুদ্রসিংহ তার নৃশংস পরিকল্পনা বুনতে শুরু করেন। সিংহাসনে বসেন শারীরিকভাবে অক্ষম ও মদ্যপ জ্যেষ্ঠপুত্র রামগুপ্ত। আর গুপ্তসাম্রাজ্যের মহাদেবী হয়ে আসেন মালবরাজকুমারী ধ্রুবা, যিনি ছিলেন চন্দ্রগুপ্তের প্রেয়সী।
বিষয়বস্তু
সম্পাদনারামগুপ্ত সিংহাসনে বসতে না বসতেই রুদ্রসিংহের হুমকি আসে। মহাদেবী ধ্রুবাকে তার কাছে সমর্পণ না করলে গুপ্তসাম্রাজ্য ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। কাপুরুষ রামগুপ্ত নিজের প্রাণ বাঁচাতে স্ত্রীকে শত্রুর হাতে তুলে দিতে রাজি হয়ে যান। এই অবমাননা সহ্য করতে না পেরে চন্দ্রগুপ্ত নিজেই ধ্রুবার ছদ্মবেশ ধারণ করে শত্রুশিবিরে যান এবং রুদ্রসিংহকে হত্যা করেন। এই কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে ধ্রুবা, যিনি একদিকে প্রেমিকাকে হারানো নারী, অন্যদিকে গুপ্তসাম্রাজ্যের মহাদেবী হওয়ার নিয়তিতে আটকে পড়া এক রাজকুমারী।
প্রধান চরিত্রসমূহ
সম্পাদনা- ধ্রুবাদেবী: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারীচরিত্র, মালবরাজকুমারী এবং গুপ্তসাম্রাজ্যের মহাদেবী।
- চন্দ্রগুপ্ত: সমুদ্রগুপ্তের মধ্যমপুত্র, ধ্রুবার প্রেমিক ও পরবর্তী সম্রাট।
- রামগুপ্ত: সমুদ্রগুপ্তের জ্যেষ্ঠপুত্র, কাপুরুষ সম্রাট।
- রুদ্রসিংহ: শকাধিপতি, উপন্যাসের প্রধান খলচরিত্র।
- সমুদ্রগুপ্ত: গুপ্তসাম্রাজ্যের মহারাজাধিরাজ।
লেখক পরিচিতি
সম্পাদনাঅভীক সরকারের জন্ম পয়লা জুন উনিশশো উনআশি সালে। বেড়ে ওঠা হাওড়ায়। পেশায় সেলসম্যান, কর্মসূত্রে ঘুরেছেন পূর্ব-ভারতের প্রায় সব শহর ও গ্রাম। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে আছে মার্কেট ভিজিট, এবং ইনকুইজিশন, খোঁড়া ভৈরবীর মা, চক্রসম্বরের পুঁথি ইত্যাদি।