পল্লী-সমাজ
পল্লী-সমাজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯১৬ সালের জানুয়ারি মাসে গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স কর্তৃক পুস্তকাকারে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি ব্রিটিশ আমলের বাংলার পল্লীসমাজের অনাচার, জমিদারি রাজনীতি এবং নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতনের পটভূমিতে রচিত। উপন্যাসটি প্রথমে ১৩২২–১৩২৩ বঙ্গাব্দে ভারতবর্ষ মাসিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
পত্রিকায় প্রকাশ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসটির প্রথম নয়টি পরিচ্ছেদ ১৩২২ বঙ্গাব্দের আশ্বিন, অগ্রহায়ণ ও পৌষ সংখ্যায় ভারতবর্ষ মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রাথমিকভাবে নয়টি পরিচ্ছেদেই উপন্যাসটি সমাপ্ত করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পরে শরৎচন্দ্র আরও দশটি পরিচ্ছেদ রচনা করেন। এই দশটি পরিচ্ছেদ একসাথে ১৩২৩ বঙ্গাব্দের পৌষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। মোট উনিশটি পরিচ্ছেদে সম্পূর্ণ উপন্যাসটি ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে পুস্তকাকারে প্রকাশ পায়।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলার এক পল্লীগ্রামের সংকীর্ণ সামাজিক পরিবেশ, যেখানে জমিদারি প্রথার দাপট, বর্ণবিদ্বেষ ও গ্রামীণ কোন্দল মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে ফেরা তরুণ রমেশ গ্রামের সেচব্যবস্থা উন্নত করতে এবং অনাচার দূর করতে উদ্যোগী হয়। কিন্তু সংকীর্ণ স্বার্থান্বেষী মহল ও প্রতিবেশী জমিদারদের বাধায় তার স্বপ্ন বারবার আঘাত পায়। এর পাশাপাশি বিধবা রমার সাথে রমেশের বিতর্কিত প্রণয়-কাহিনি সমাজের রক্ষণশীল ও প্রতিগামী শক্তির বিরুদ্ধে এক মানবিক প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রধান চরিত্রসমূহ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- রমেশ: উপন্যাসের নায়ক, রুরকী-প্রশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার, দ্রোহ ও পরিবর্তনের প্রতীক।
- রমা: বিধবা যুবতী, উপন্যাসের নায়িকা; সমাজের চাপে যার জীবন বারবার বিপর্যস্ত হয়।
- বেণী ঘোষাল: গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্বার্থান্বেষী।
- তারিণী ঘোষাল: বেণীর পিতা, পল্লীর কোন্দলের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
শৈলী ও তাৎপর্য
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]শরৎচন্দ্র এই উপন্যাসে পল্লীসমাজের জাতিভেদ, নারীর অবদমন ও জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র সামাজিক সমালোচনা করেছেন। নারীর ইচ্ছাশক্তি ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সুর। উপন্যাসটি সাধু বাংলায় রচিত এবং এটি প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া ফেলে।