বিষয়বস্তুতে চলুন

আদর্শ হিন্দু হোটেল

বইপিডিয়া থেকে
আদর্শ হিন্দু হোটেল
নাম আদর্শ হিন্দু হোটেল
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক পুনশ্চ (বর্তমান সংস্করণ)
প্রকাশনার স্থান ভারত
প্রকাশনার তারিখ ১৯৪০ (প্রথম প্রকাশ)
আইএসবিএন 978-81-75724-44-0


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় জীবনসংগ্রাম, সততা, স্বপ্ন এবং হোটেল ব্যবসা
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার
পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৬০

আদর্শ হিন্দু হোটেল প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় ও বাস্তবধর্মী উপন্যাস। ১৯৪০ সালে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বিভূতিভূষণের অন্যান্য উপন্যাসে প্রকৃতি প্রধান হয়ে উঠলেও, এই উপন্যাসে মানুষের জীবনসংগ্রাম, টিকে থাকার লড়াই এবং একজন সাধারণ মানুষের স্বপ্নপূরণের কাহিনী অত্যন্ত প্রখরভাবে ফুটে উঠেছে।

উপন্যাসের পটভূমি রানাঘাট রেলস্টেশনের সংলগ্ন একটি ভাতের হোটেল। এর প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুর—যিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ রাঁধুনি হওয়া সত্ত্বেও হোটেলের মালিকপক্ষ ও সহকর্মীদের অবজ্ঞা এবং চক্রান্তের শিকার হন। বিশেষ করে পদ্ম ঝিয়ের অমানবিক আচরণ ও চুরির অপবাদ তাঁর জীবনকে বিষিয়ে তোলে।

তবে হাজারি ঠাকুর একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। হোটেলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং কাস্টমার ঠকানোর ব্যবসায়িক মানসিকতার মাঝেও তিনি নিজের নীতিতে অটল থাকেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন নিজের একটি হোটেল করার, যেখানে মানুষকে অকৃত্রিম মমতা ও শুদ্ধতার সাথে খাবার পরিবেশন করা হবে। শেষ পর্যন্ত হাজারি ঠাকুরের সেই স্বপ্ন পূরণ হয় এবং তাঁর সততা ও রান্নার জাদুকরী গুনেই তিনি ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করেন।

মূল চরিত্রসমূহ

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
  • হাজারি ঠাকুর: উপন্যাসের প্রধান নায়ক, একজন সৎ ও আদর্শবাদী রাঁধুনি।
  • পদ্ম দিদি: হোটেলের ঝি এবং হাজারি ঠাকুরের প্রতিপক্ষ, যার কঠোর ও কুটিল স্বভাব উপন্যাসে নেতিবাচক সংঘাত তৈরি করে।
  • কুসুম: হাজারি ঠাকুরের এক শুভাকাঙ্ক্ষী নারী চরিত্র।
  • রতন ঠাকুর: হাজারি ঠাকুরের সহকর্মী।

বৈশিষ্ট্য ও মূল্যায়ন

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বিভূতিভূষণ এই উপন্যাসে দেখিয়েছেন যে, অতি সাধারণ স্তরের একজন মানুষও যদি সৎ থাকে এবং তার লক্ষ্যে অবিচল থাকে, তবে সে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে পারে। হোটেলের দৈনন্দিন খুঁটিনাটি কাজ, বাজারের হিসাব এবং রান্নার যে নিখুঁত বর্ণনা লেখক দিয়েছেন, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। হাজারি ঠাকুরের ব্যবসায়িক সাফল্যের চেয়েও তার মানবিক গুণাবলি এবং অতি বড় শত্রুর (পদ্ম দিদি) প্রতি তাঁর উদারতা উপন্যাসটিকে মহান করে তুলেছে।

প্রকাশনা ইতিহাস

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। পরবর্তীকালে এটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ধারাবাহিক নির্মিত হয়েছে। আপনার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে 'পুনশ্চ' প্রকাশনী থেকে এর একটি নতুন সংস্করণ বের হয় যার পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৬০।