দত্তা
দত্তা বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রোমান্টিক সামাজিক উপন্যাস। ১৯১৮ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি একজন ব্রাহ্মসমাজভুক্ত ধনাঢ্য রমণী এবং একজন হিন্দু তরুণের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক বাধা অতিক্রম করে গড়ে ওঠা প্রণয়কাহিনি নিয়ে রচিত। উপন্যাসটি পরবর্তীতে একাধিকবার চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। ১৯৩৪ সালে উপন্যাসটির নাট্যরূপ বিজয়া নামে প্রকাশিত হয়।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসের পটভূমি বাংলার এক জমিদারি গ্রামসমাজ। বনমালীবাবু গ্রামের বিশাল জমিদার। তার দুই অন্তরঙ্গ বন্ধু জগদীশ মুখুজ্যে ও রাসবিহারী। রাসবিহারী তার পুত্র বিলাসের সাথে বনমালীবাবুর একমাত্র কন্যা বিজয়ার বিবাহ দিতে অত্যন্ত আগ্রহী। কিন্তু বিজয়ার মন পড়ে আছে জগদীশের পুত্র নরেনের দিকে। জমিদারবাড়িতে ব্রাহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠার উপলক্ষে রাসবিহারী বিজয়া ও বিলাসের বিবাহ ঘোষণা করে বসেন। বিজয়ার অসম্মতিতে সে সেখান থেকে প্রস্থান করে। গ্রামে জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে নরেনের চিকিৎসা ও সেবায় বিজয়া সুস্থ হয়, এবং দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা পুনঃস্থাপিত হয়। ধর্মীয় পরিচয়ের ব্যবধান ও সামাজিক চাপ পেরিয়ে উপন্যাসটি এক মানবিক প্রেমের পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।
প্রধান চরিত্রসমূহ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- বিজয়া: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারীচরিত্র, বনমালীবাবুর একমাত্র কন্যা, ব্রাহ্ম পরিবারের মেয়ে।
- নরেন: জগদীশ মুখুজ্যের পুত্র, হিন্দু পরিবারের মেধাবী তরুণ।
- বনমালীবাবু: গ্রামের জমিদার, বিজয়ার পিতা।
- জগদীশ মুখুজ্যে: বনমালীবাবুর প্রিয় বন্ধু, নরেনের পিতা।
- রাসবিহারী: বনমালীবাবুর আরেক বন্ধু, স্বার্থান্বেষী চরিত্র।
- বিলাস: রাসবিহারীর পুত্র।
- দয়ালবাবু: ব্রাহ্মমন্দিরের দেখাশোনার ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
- নলিনী: বিজয়ার সখী।
নাট্যরূপ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]১৯৩৪ সালে উপন্যাসটির নাট্যরূপ বিজয়া নামে প্রকাশিত হয়, যেখানে মূল কাহিনির নাট্যিক রূপান্তর ঘটানো হয়।
চলচ্চিত্র রূপান্তর
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসটি বাংলা ও হিন্দি ভাষায় একাধিকবার চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে।