বিষয়বস্তুতে চলুন

সুবর্ণলতা

বইপিডিয়া থেকে
সুবর্ণলতা
নাম সুবর্ণলতা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক আশাপূর্ণা দেবী


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক মিত্র ও ঘোষ
প্রকাশনার স্থান কলকাতা, ভারত
প্রকাশনার তারিখ ১৯৬৫
আইএসবিএন 978-81-7293-001-4


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় নারীর অবদমন, একান্নবর্তী পরিবারের রাজনীতি, মুক্তিস্পৃহা
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার / পেপারব্যাক
পৃষ্ঠাসংখ্যা ৪৫০

সুবর্ণলতা হল প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত একটি কালজয়ী উপন্যাস। এটি লেখিকার বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড। প্রথম খণ্ড প্রথম প্রতিশ্রুতি এবং শেষ খণ্ড বকুলকথা। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সুবর্ণলতা চরিত্রটি নারী সংগ্রামের এক করুণ অথচ উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে অমর হয়ে আছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের কলকাতার একান্নবর্তী পরিবারের দমবন্ধ করা পরিবেশে একজন বুদ্ধিমতী ও অনুভূতিপ্রবণ নারীর হাহাকার এই উপন্যাসের উপজীব্য।

কাহিনি-সংক্ষেপ

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

উপন্যাসের নায়িকা সুবর্ণলতা বা সুবর্ণ। সে প্রথম প্রতিশ্রুতির নায়িকা সত্যবতীর কন্যা। মায়ের বিদ্রোহী সত্তা ও মেধা নিয়েই সুবর্ণর জন্ম, কিন্তু তার ভাগ্য মায়ের মতো হয়নি। মাত্র নয় বছর বয়সে তাকে কলকাতার এক রক্ষণশীল ও গোঁড়া একান্নবর্তী পরিবারে বিয়ে দেওয়া হয়।

শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ ছিল শিক্ষার আলোহীন এবং কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। সুবর্ণর শাশুড়ি মুক্তোকেশী এবং স্বামী প্রবোধচন্দ্র কেউই সুবর্ণর মনের নাগাল পাননি। বই পড়ার অদম্য নেশা এবং সত্য কথা বলার অভ্যাসের জন্য সুবর্ণকে সারাজীবন পরিবারে লাঞ্ছিত ও একঘরে হয়ে থাকতে হয়। বাড়ির একমাত্র দক্ষিণের বারান্দাটি ছিল সুবর্ণর মুক্তির আকাশ। সাংসারিক কাজের ফাঁকে লুকিয়ে সে সাহিত্য চর্চা করত। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সে নিজের জীবনের কথা একটি খাতায় লিখেছিল, কিন্তু তার সেই পাণ্ডুলিপি তার মেজজা (ননদ) পুড়িয়ে ফেলে। চরম হতাশা, অপমান এবং ভুল বোঝার বোঝা নিয়ে সুবর্ণলতা মৃত্যুবরণ করে, কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে বকুল মায়ের সেই অসমাপ্ত লড়াইয়ের মশাল বহন করে নিয়ে যায়।

প্রতীকী তাৎপর্য

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

উপন্যাসে দক্ষিণের বারান্দা একটি শক্তিশালী প্রতীক। এটি কেবল একটি বারান্দা নয়, এটি সুবর্ণলতার কাছে ছিল মুক্তির জানালা, যেখানে দাঁড়িয়ে সে বাইরের জগৎকে দেখত এবং নিজের স্বপ্ন বুনত। এছাড়া সুবর্ণর পোড়ানো পাণ্ডুলিপিটি নারীর রুদ্ধ কণ্ঠস্বরের প্রতীক।

প্রধান চরিত্র

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
  • সুবর্ণলতা: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। এক প্রতিবাদী নারী, যে আজীবন নিজের মেধা ও মননের স্বীকৃতি চেয়ে পায়নি।
  • প্রবোধ: সুবর্ণর স্বামী। যে স্ত্রীকে ভালোবাসত কিন্তু মায়ের ভয়ে এবং পৌরুষের অহংকারে স্ত্রীকে কখনও সমর্থন করতে পারেনি।
  • মুক্তোকেশী: সুবর্ণর শাশুড়ি। একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী পরিবারের কর্ত্রী।
  • বকুল: সুবর্ণর ছোট মেয়ে, যে মায়ের মৃত্যুর পর মায়ের ডায়েরির ভস্মীভূত ছাই থেকে নতুন সৃষ্টির প্রেরণা পায়।