বলয়গ্রাস: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য
অ Encyclopedist (আলাপ)-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে ARI-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে ট্যাগ: প্রতিস্থাপিত পুনর্বহাল মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা |
|
| (একজন ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত একটি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না) | |
(কোনও পার্থক্য নেই)
| |
১০:৫৩, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ
বলয়গ্রাস হল প্রখ্যাত সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত একটি মর্মস্পর্শী সামাজিক উপন্যাস। এই উপন্যাসে লেখিকা সমাজের তথাকথিত আভিজাত্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নিষ্ঠুরতা, ভণ্ডামি এবং একটি অবহেলিত শিশুর অভিমান ও চরম প্রত্যাখ্যানের চিত্র তুলে ধরেছেন। রক্তের সম্পর্কের চেয়েও যে আত্মসম্মান ও অবহেলার স্মৃতি অনেক সময় বড় হয়ে দাঁড়ায়, এই উপন্যাস তারই দলিল।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে 'টুনি' নামের একটি শিশুকন্যাকে কেন্দ্র করে। ধনী ও প্রভাবশালী বিধবা মহালক্ষ্মীর একমাত্র কন্যা মণিমালার কুমারীকালের সন্তান সে। সমাজের চোখে এই 'কলঙ্ক' ঢাকতে মহালক্ষ্মী টুনিকে নিজের এক বিধবা ভাইঝি তরুবালার কন্যা হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে বাড়িতে আশ্রয় দেন। কিন্তু টুনির বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার চেহারা ও আচরণে মা মণিমালার স্পষ্ট ছাপ ফুটে উঠতে থাকে, যা মহালক্ষ্মীকে প্রতিনিয়ত বিব্রত ও শঙ্কিত করে তোলে।
নিজের বাড়িতেই অনাদর ও অবহেলায় বড় হতে থাকা বালিকা টুনি একদিন অতিষ্ঠ হয়ে গৃহত্যাগ করে। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে একসময় তার ঠাঁই হয় সমাজসেবী বিভাবতী দেবীর অনাথ আশ্রমে। এদিকে টুনির নিরুদ্দেশ হওয়ার পরেই তার জন্মদাতা পিতা জ্যোতিপ্রকাশ ফিরে আসেন এবং মহালক্ষ্মীর আপত্তি সত্ত্বেও মণিমালাকে বিবাহ করেন। কিন্তু তাঁদের সুখের সংসারে টুনির অনুপস্থিতি এক বিাঢ় কালো ছায়া হয়ে বিরাজ করে।
বহু বছর পর ঘটনাক্রমে সেই অনাথ আশ্রমে যুবতী টুনির সন্ধান পান মণিমালা ও জ্যোতিপ্রকাশ। কিন্তু আজন্ম লাঞ্ছিতা ও অপমানিতা টুনি তার জন্মদাতাদের চিনতে পেরেও অস্বীকার করে। উপন্যাসের শেষে তার নির্মম ও রূঢ় প্রত্যাখ্যান— “বারবার বলছি আমি লীলা।... টুনি কে? টুনিকে চিনি না আমি”— পাঠকের মনে গভীর রেখাপাত করে।
চরিত্র চিত্রণ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- টুনি: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। পরিস্থিতির শিকার এক অভিমানী নারী, যে শেষপর্যন্ত তার জন্মদাতাদের প্রত্যাখ্যান করে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় বেছে নেয়।
- মহালক্ষ্মী: সমাজপতি ও রক্ষণশীল মানসিকতার প্রতীক। লোকলজ্জার ভয়ে যিনি নিজের নাতনিকে অস্বীকার করেছেন।
- মণিমালা: টুনির মা, যিনি পরিস্থিতির চাপে অসহায় ছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে মাতৃত্বের টানে হাহাকার করেছেন।
- জ্যোতিপ্রকাশ: টুনির বাবা, যিনি প্রায়শ্চিত্ত করতে ফিরে এসেছিলেন।
- বিভাবতী দেবী: অনাথ আশ্রমের কর্ত্রী, যিনি টুনিকে নতুন জীবন ও আশ্রয় দিয়েছেন।