ক্রীতদাসের হাসি
ক্রীতদাসের হাসি বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান রচিত একটি কালজয়ী রাজনৈতিক রূপকধর্মী উপন্যাস। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি মাইলফলক হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারী শাসনের প্রেক্ষাপটে লেখক এই রূপক কাহিনীটি রচনা করেন। এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৬৬ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসের প্রেক্ষাপট আব্বাসীয় খলিফা হারুন আল রশিদের শাসনামলের বাগদাদ শহর। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'তাতারি' একজন ক্রীতদাস: যে তার প্রেমিকা মেহেরমানকে হারিয়েও নিজের মনের গভীরে এক অদম্য হাসির শক্তি ধরে রাখে। খলিফা হারুন আল রশিদ তাতারিকে সব ধরনের ভোগবিলাস ও ঐশ্বর্য প্রদান করেও তার সেই স্বতঃস্ফূর্ত হাসি কিনতে ব্যর্থ হন। উপন্যাসে লেখক দেখিয়েছেন যে অর্থ অথবা ক্ষমতার জোরে মানুষের মনের আনন্দ ও স্বাধীনতা কেনা সম্ভব নয়। স্বৈরাচারী শাসকের কাছে মানুষের দেহের দাসত্ব থাকলেও মনের স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদা অপরাজেয়।
প্রধান চরিত্রসমূহ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- তাতারি: উপন্যাসের নায়ক এবং অদম্য চেতনার অধিকারী একজন ক্রীতদাস।
- মেহেরমান: তাতারির প্রেমিকা এবং তার অনুপ্রেরণার উৎস।
- খলিফা হারুন আল রশিদ: ক্ষমতার দম্ভে মত্ত এক শাসক।
- মসরুর: খলিফার জল্লাদ।