মনের মতো সালাত
মনের মতো সালাত ড. খালিদ আবু শাদি রচিত একটি ইসলামি বই, যা আহমাদ ইউসুফ শরীফ কর্তৃক অনূদিত এবং ডা. শামসুল আরেফীন কর্তৃক সম্পাদিত। সন্দীপন প্রকাশন লিমিটেড থেকে প্রকাশিত এই বইটি সালাতের আধ্যাত্মিক গভীরতা এবং আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক সুদৃঢ় করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এটি সালাতে মনোযোগ ধরে রাখা ও এর প্রকৃত স্বাদ অনুধাবন করার কৌশল নিয়ে পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পেশ করে।
পটভূমি ও বিষয়বস্তু
সম্পাদনাবইটি মূলত সালাতকে নিছক একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবনের উপর জোর দেয়। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, সালাত শুধুমাত্র দিনের নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করার একটি কাজ নয়, বরং এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপনের একটি মাধ্যম। বিগলিত হৃদয়ে আল্লাহর সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়ার মাধ্যমেই সালাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধিত হয়।
বইটিতে সালাতের সময় শয়তানের প্ররোচনা এবং মনোযোগে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টিকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক পাঠকের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, কতবার সালাতে মনোযোগ বিঘ্নিত হয়েছে, সালাত শেষ হওয়ার পরও মন কোথায় ছিল তা টের পাওয়া যায়নি, কিংবা সালাতকে ক্লান্তিকর ও কঠিন মনে হয়েছে। এ ধরনের গাফিলতি এবং আলস্য নিয়ে সালাতে দাঁড়ানো শয়তানকে স্বাগত জানানোর শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বইটিতে সালাতে উপস্থিত হৃদয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে পাঠককে সজাগ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
লেখক স্মরণ করিয়ে দেন যে, সালাত ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চক্ষুর শীতলতা। সেই অতুলনীয় স্বাদ আস্বাদন করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যা আজকের মুসলিমদের জীবনে প্রায়শই অনুপস্থিত। বইটি পাঠকের মনে সালাতের হাজার বছরের পুরনো সেই স্বাদ ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে, যে স্বাদ অনুভব করে সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফগণ সালাতে বিভোর হয়ে যেতেন। 'মনের মতো সালাত' বইটি সালাতে উদাসীনতার চক্রব্যূহ থেকে বেরিয়ে আসতে এবং ইবাদতের এই গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে গভীর আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হয়েছে।
বইটির লেখক ড. খালিদ আবু শাদি মিসরের একজন উল্লেখযোগ্য দায়ি ইলাল্লাহ। ১৯৭৩ সালে গারবিয়াহ প্রদেশের জিফতা নগরীতে জন্মগ্রহণকারী আবু শাদি কুয়েতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসি ফ্যাকাল্টিতে স্নাতক হন। কর্মজীবনের একটি বড় অংশ তিনি দাওয়াহর কাজে ব্যয় করেন এবং লেখালেখিকে দাওয়াহর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন। তার স্বতন্ত্র রচনাশৈলী এবং হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপনা পাঠক মহলে সমাদৃত। তার কলমে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার এক বিশেষ শক্তি পরিলক্ষিত হয়। 'ইয়ানাবিউর রাজা', 'মাআন নাসনাউল ফাজরাল কাদিম', 'সাফাকাতুন রাবিহা' ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।