গণদেবতা হলো বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি কালজয়ী এবং মহাকাব্যিক উপন্যাস। ১৯৪২ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। গ্রামীণ সমাজের বিবর্তন, শিল্পায়নের প্রভাব এবং সমকালীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমিতে এটি রচিত। এই উপন্যাসের জন্যই লেখক ১৯৬৬ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।

গণদেবতা
নাম গণদেবতা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক মিত্র ও ঘোষ (বর্তমান সংস্করণ)
প্রকাশনার স্থান ভারত (অবিভক্ত বাংলা)
প্রকাশনার তারিখ ১৯৪২
আইএসবিএন 8172931123


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, শিল্পায়ন, স্বাধীনতা আন্দোলন
মিডিয়া ধরন পেপারব্যাক / হার্ডকভার
পৃষ্ঠাসংখ্যা ২৪০

বিষয়বস্তু

সম্পাদনা

'গণদেবতা' উপন্যাসে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলার গ্রামীণ সমাজের ভাঙা-গড়ার চিত্র নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। গ্রামের চিরায়ত সমাজকাঠামো, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এবং কামার-কুমোর-ছুতোরদের নিয়ে গঠিত স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামজীবনের ওপর শিল্পায়নের আঘাত এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। কাহিনীতে যেমন উঠে এসেছে চাষী ও মজুরদের হাহাকার, তেমনই চিত্রিত হয়েছে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার অবক্ষয় এবং সাধারণ মানুষের জেগে ওঠার গল্প। চণ্ডীমণ্ডপকে কেন্দ্র করে আবর্তিত গ্রামীণ রাজনীতি ও সম্পর্কের টানাপোড়েন এখানে অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

গঠন ও বিন্যাস

সম্পাদনা

মূলত 'গণদেবতা' এবং 'পঞ্চগ্রাম'—এই দুটি পৃথক উপন্যাসকে একত্রে এই মহাকাব্যিক উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়। উপন্যাসের পটভূমি পাঁচটি গ্রাম নিয়ে গঠিত, যেখানে সাধারণ মানুষের সামষ্টিক শক্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে, যাদের কবি 'গণদেবতা' হিসেবে সম্বোধন করেছেন।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

সম্পাদনা

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে এই উপন্যাসটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এর প্রধান স্বীকৃতিগুলো হলো:

  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার: ১৯৬৬ সালে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এই উপন্যাসের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান লাভ করেন।

প্রকাশনা ইতিহাস

সম্পাদনা

উপন্যাসটি প্রথম ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এটি বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে ভিন্ন ভিন্ন মলাটে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে 'মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স' বইটির অন্যতম প্রধান প্রকাশক। ২০১৯ সালের সংস্করণে এটি ২৪০ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক বাঁধাইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

চরিত্রসমূহ

সম্পাদনা
  • দেবনাথ (দেবুন ঘোষ): উপন্যাসের প্রধান চরিত্র, যিনি গ্রামের মানুষের ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান।
  • অনিরুদ্ধ কর্মকার: গ্রামের কামার, যে প্রথম বিদ্রোহের সুর তোলে।
  • পদ্ম: অনিরুদ্ধর স্ত্রী।
  • দুর্গা: গ্রামের এক বিতর্কিত অথচ মানবিক চরিত্র।
  • শ্রীহরি পাল (ছিরু পাল): গ্রামের শোষক ও প্রতাপশালী চরিত্র।

আরও দেখুন

সম্পাদনা

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা