বিষয়বস্তুতে চলুন

বোবা কাহিনী

বইপিডিয়া থেকে
বোবা কাহিনী
নাম বোবা কাহিনী
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক জসীম উদ্‌দীন


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক পলাশ প্রকাশনী
প্রকাশনার স্থান বাংলাদেশ (ঢাকা)
প্রকাশনার তারিখ ১৯৬৪



বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় কৃষিজীবী সমাজ, দারিদ্র্য ও সংগ্রাম, লোকজীবন, শিক্ষা ও মুক্তি, দুই প্রজন্মের জীবনকথা
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার ও পেপারব্যাক
পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৬৫

বোবা কাহিনী পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবনভিত্তিক। প্রকাশক পলাশ প্রকাশনী। কবিতার জগতে 'নকশীকাঁথার মাঠ' ও 'সোজন বাদিয়ার ঘাট'-এর মতো কালজয়ী রচনার স্রষ্টা জসীম উদ্‌দীন এই উপন্যাসে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের যুগে বাংলার কৃষক ও ক্ষেতমজুরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক দুর্দশার ছবি অঙ্কন করেছেন।

বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলের একটি বিশেষ এলাকার জীবনচিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের এক ছিন্নমূল কৃষকসন্তান। বাল্যকাল থেকেই লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা তার নিত্যসঙ্গী। তবুও সে স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করে করে যায় বেশি ফসল ফলিয়ে সুখের নাগাল পেতে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে গিয়ে সে স্বপ্ন দেখে তার পুত্র বছিরকে উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষায় মানুষ করার। নানা বিপত্তি সত্ত্বেও অনেক ত্যাগ ও স্বশ্রেণীর সাহায্য ও সহায়তায় তার স্বপ্নপূরণের পথ খুলে যায়। বছিরের স্বপ্ন তার নিজের পরিবারের এবং নিরক্ষর গ্রামের মানুষের দুর্গতি-মুক্তির। দরিদ্র গ্রাম্যচাষী আজাহের ও তার পুত্র বছির, এই দুই প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের সফলতা ও বিফলতার কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাস।

প্রধান চরিত্রসমূহ

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
  • আজাহের: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, ছিন্নমূল কৃষকসন্তান; স্বপ্ন ও সংগ্রামের প্রতীক।
  • বছির: আজাহেরের পুত্র; শিক্ষার মাধ্যমে পরিবার ও গ্রামের মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা।
  • আজাহেরের স্ত্রী: কঠিন জীবনের সঙ্গী, সংগ্রামের অংশীদার।

শৈলী ও তাৎপর্য

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

উপন্যাসটি জসীম উদ্‌দীনের কবিসত্তার ছাপবাহী। গ্রামীণ জীবনের হৃদয়ছোঁয়া ভাষায় জীবনযুদ্ধের গাথা রচিত হয়েছে। লোকসংস্কৃতির উপাদান — পালাগান, লোকগীতি, গ্রামীণ রীতিনীতি — উপন্যাসের আখ্যানকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার কৃষক সমাজের যে সর্বনাশ ঘটেছিল, তার মর্মস্পর্শী দলিল এই উপন্যাস।