আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া

আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া (ইংরেজি: A Passage to India) ব্রিটিশ লেখক ই. এম. ফরস্টার রচিত একটি বিশ্বখ্যাত উপন্যাস। ১৯২৪ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজি উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত। ব্রিটিশ রাজত্বের প্রেক্ষাপটে ভারতে ব্রিটিশ এবং ভারতীয়দের মধ্যেকার জটিল সম্পর্ক, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং বন্ধুত্বের ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে। এটি ১৯২৪ সালে 'জেমস টেইট ব্ল্যাক মেমোরিয়াল প্রাইজ' লাভ করে।

আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া
নাম আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক ই. এম. ফরস্টার


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক ব্লুমসবেরি ইন্ডিয়া
প্রকাশনার স্থান যুক্তরাজ্য
প্রকাশনার তারিখ ৪ জুন ১৯২৪
আইএসবিএন 9789386349507


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা ইংরেজি
বিষয় ব্রিটিশ রাজ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও সাংস্কৃতিক সংঘাত
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার ও পেপারব্যাক

বিষয়বস্তু

সম্পাদনা

উপন্যাসটি মূলত ১৯২০-এর দশকের ভারতের পটভূমিতে রচিত। কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে চারজন মূল চরিত্র: ডা. আজিজ (একজন ভারতীয় মুসলিম ডাক্তার), সিরিল ফিল্ডিং (একজন ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক), অ্যাডেলা কোয়েস্টেড এবং মিসেস মুর। কাহিনীটি তিনটি অংশে বিভক্ত— 'মসজিদ', 'গুহা' এবং 'মন্দির'।

অ্যাডেলা কোয়েস্টেড নামক এক তরুণী ব্রিটিশ নারী 'আসল ভারত' দেখার ইচ্ছা পোষণ করেন। ডা. আজিজ তাকে এবং মিসেস মুরকে ঐতিহাসিক 'মারাবার গুহা' পরিদর্শনে নিয়ে যান। সেখানে একটি রহস্যময় ঘটনার প্রেক্ষিতে অ্যাডেলা ডা. আজিজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দ্রপুর নামক কাল্পনিক শহরে ব্রিটিশ শাসক এবং স্থানীয় ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র বর্ণবাদী ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ডা. আজিজ নির্দোষ প্রমাণিত হলেও, উপন্যাসের শেষে ভারত ও ব্রিটেনের মানুষের মধ্যে সত্যিকারের বন্ধুত্বের সম্ভাবনা নিয়ে এক ধরণের সংশয়ী ও গভীর জীবনদর্শন ফুটে ওঠে।

প্রধান চরিত্রসমূহ

সম্পাদনা
  • ডা. আজিজ: উপন্যাসের প্রধান চরিত্র, একজন আবেগপ্রবণ ভারতীয় ডাক্তার।
  • সিরিল ফিল্ডিং: একজন উদারমনা ব্রিটিশ সরকারি কর্মকর্তা, যিনি ডা. আজিজের সাথে প্রকৃত বন্ধুত্বের চেষ্টা করেন।
  • অ্যাডেলা কোয়েস্টেড: একজন তরুণী ইংরেজ নারী, যার অভিযোগ কাহিনীতে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
  • মিসেস মুর: ফিল্ডিংয়ের মতো তিনিও ভারতীয়দের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং আধ্যাত্মিক চেতনার অধিকারী।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব

সম্পাদনা

উপন্যাসটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের এক ধরণের সমালোচনা হিসেবে গণ্য করা হয়। ফরস্টার দেখিয়েছেন যে, শাসক ও শাসিতের সম্পর্কের মধ্যে ব্যক্তিগত স্তরে সমমর্যাদার বন্ধুত্ব হওয়া কতটা দুরুহ। উপন্যাসের "Not yet, not there" সমাপ্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা নির্দেশ করে যে যতদিন না ভারত স্বাধীন হচ্ছে, ততদিন দুই জাতির মধ্যে প্রকৃত সাম্য সম্ভব নয়।

আরও দেখুন

সম্পাদনা

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা