আগুনের পরশমণি
আগুনের পরশমণি বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৮৬ সালে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রথম প্রকাশিত এই উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অবরুদ্ধ ঢাকায় গেরিলা অপারেশনের পটভূমিতে রচিত। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে হুমায়ূন আহমেদ নিজেই এই উপন্যাস অবলম্বনে একই শিরোনামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যা তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]১৯৭১ সালের মে মাস। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলে অবরুদ্ধ ঢাকায় মুক্তিবাহিনী গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গেরিলাযোদ্ধা বদিউল আলম (আলম) মতিন সাহেবের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। মতিন সাহেব তাকে তার ভাগিনা বলে পরিচয় দেন, কিন্তু বুদ্ধিমতী স্ত্রী সুরমা প্রথম দিনেই সত্য বুঝে নেন। একের পর এক গেরিলা অভিযান চালাতে গিয়ে আলমের কাঁধে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে আবার মতিন সাহেবের বাড়িতে আনা হয়। কার্ফুর মধ্যে ডাক্তার আসার অপেক্ষা, মতিন সাহেবের বড় মেয়ে রাত্রির নীরব উদ্বেগ এবং দেশের জন্য জীবন বাজি রাখা তরুণ মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে এগিয়ে চলে উপন্যাসের কাহিনি।
প্রধান চরিত্রসমূহ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- বদিউল আলম (আলম): উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, একজন গেরিলাযোদ্ধা।
- রাত্রি: মতিন সাহেবের বড় মেয়ে, যে আলমের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ে।
- মতিন সাহেব: অবরুদ্ধ ঢাকার একজন সাধারণ গৃহস্থ, যিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেন।
- সুরমা: মতিন সাহেবের স্ত্রী, বিচক্ষণ ও সাহসী।
- অপলা: মতিন সাহেবের ছোট মেয়ে।
- রাশেদুল করিম: একজন গেরিলাযোদ্ধা, যাকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে যায়।
চলচ্চিত্র রূপান্তর
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]১৯৯৪ সালে হুমায়ূন আহমেদ নিজেই এই উপন্যাস অবলম্বনে আগুনের পরশমণি চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন। এটি ছিল তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ছবিতে অভিনয় করেছেন বিপাশা হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, আবুল হায়াত, ডলি জহুর প্রমুখ। বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ আটটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।