চিলেকোঠার সেপাই বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত এটি একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস। স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে চিলেকোঠায় বাসকরা একজন সাধারণ মানুষের যোগ দিতে সক্ষম হওয়ার গল্প চিলেকোঠার সেপাইটেমপ্লেট:R এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৮৭ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।টেমপ্লেট:R

চিলেকোঠার সেপাই
চিত্র:আখতারুজ্জামান ইলিয়াস - চিলেকোঠার সেপাই.jpeg
নাম চিলেকোঠার সেপাই
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড


আইএসবিএন 9789845060523


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা


পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩০৪ (১৯৮৬ সংকরণ)

প্রকাশনা

সম্পাদনা

১৯৭৫ সালে দৈনিক সংবাদের সাহিত্যপাতায় চিলেকোঠার সেপাই ধারাবাহিকভাবে ছাপা হতে শুরু করে। যদিও তৎকালীন সরকার পরিবর্তনের কারণে অসমাপ্ত অবস্থায় উপন্যাসটির প্রকাশ বন্ধ করে দেয়।টেমপ্লেট:Sfn পরে ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত উপন্যাসটি সাপ্তাহিক রোববার পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।টেমপ্লেট:Sfn ১৯৮৬ সালের অক্টোবরে ঢাকার দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে এটি প্রকাশিত হয়। বইটির উৎসর্গ করা ছিল ইলিয়াসের পিতা বি. এম. ইলিয়াসকে।[] ১৯৯৩ সালের আগস্টে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। সেবছরই জুন মাসে কলকাতার প্রতিভাস প্রকাশনী থেকে বইটির কলকাতা সংস্করণ বের করা হয়।টেমপ্লেট:Sfn ১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচনাসমগ্র-২ গ্রন্থেও উপন্যাসটি সংকলিত হয়।

প্রেক্ষাপট

সম্পাদনা

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দুই বছর আগে বিপুল গণ-অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল। আখতারুজ্জামনের কাছে তা আগের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।[] উপন্যাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর মনোবিশ্লেষণ। ঊনসত্তর সালের প্রবল গণঅভ্যুত্থানের যারা প্রধান শক্তি ছিল, সেই শ্রমজীবী জনসাধারণ কীভাবে আন্দোলন-পরবর্তী সময়টিতে প্রতারিত এবং বঞ্চিত হলো, বামপন্থীদের দোদুল্যমানতা আর ভাঙনের ফলে, জাতীয় মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথভাবে ধারণ করতে না পারার ফলে অজস্র রক্তপাতের পরও রাজনীতির ময়দান থেকে তাদের পশ্চাদপসরণ ঘটলো, আওয়ামী লীগ প্রধান শক্তি হয়ে উঠলো, উপন্যাসটির উপজীব্য সেই ঐতিহাসিক সময়টুকুই। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এর অভিনব কাঠামো এবং নতুন ভাষাভঙ্গি পরবর্তী প্রজন্মের নতুন লেখকদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত ও প্রভাবান্বিত করে যার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ শহিদুল জহির

কাহিনীসংক্ষেপ

সম্পাদনা

আপাতদৃষ্টিতে ওসমান এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ওসমান গণি ওরফে রঞ্জু, যে একজন ছোটোখাটো সরকারি চাকুরে। অন্যদিক থেকে চিন্তা করলে এর প্রধান চরিত্র বলা যায় হাডডি খিজির, যে কিনা ওসমানের বাড়িওয়ালার ভাগনের গ্যারেজ দেখাশোনা করে। এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা ও স্তরের চরিত্রই উপন্যাসটিকে টেনে নিয়ে গেছে ঊনসত্তরের উত্তাল সময়ের ভেতর দিয়ে। আরেকটি গুরুত্ববহ চরিত্র আনোয়ার, যে মূলত একজন বামপন্থী কর্মী। ঊনসত্তরের এই টালমাটাল বিক্ষুব্ধ সময়েই সে ঘটনাক্রমে যায় তার গ্রামের বাড়িতে, যেখানে সে জনৈক গ্রাম্য জোতদার খয়বার গাজীর শোষণ ও অত্যাচার এবং সেটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তীব্র জনরোষ প্রত্যক্ষ করে। উপন্যাসের কাহিনীকে পূর্ণতা দিতেই উঠে আসে দরিদ্র যুবক চেংটু কিংবা করমালি, যারা খয়বার গাজীর বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবার ধৃষ্টতা দেখায়। অন্যদিকে স্বাভাবিক নিয়মেই গতি পায় ওসমানের অবদমিত কামনা, রেস্তোরাঁর আড্ডায় চায়ের কাপে তুমুল ঝড়, হাডডি খিজির ও তার পারিপার্শ্বিক নিম্নবিত্ত চরিত্রগুলোর চিরাচরিত জীবনযাপন; আর এই সবকিছুকে ছাপিয়ে উপন্যাসটি হয়ে ওঠে ওই বিক্ষুব্ধ কালের এক মহাকাব্যিক আখ্যান।[]

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. পৃষ্ঠা-৬৯৯, জীবনপঞ্জি, খালেকুজ্জামান ইলিয়াস, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচনা সমগ্র-২, প্রথম প্রকাশ মার্চ ১৯৯৯, পঞ্চম মুদ্রণ মার্চ ২০০৮, মাওলা ব্রাদার্স, টেমপ্লেট:আইএসবিএন
  2. পৃষ্ঠা-৫-৬, ভূমিকা, প্রাগুক্ত
  3. লুয়া ত্রুটি package.lua এর 80 নং লাইনে: module 'মডিউল:উদ্ধৃতি/রূপরেখা' not found।টেমপ্লেট:অকার্যকর সংযোগ

উদ্ধৃতি ত্রুটি: <references>-এ সংজ্ঞায়িত "সুব্রত" নামসহ <ref> ট্যাগ পূর্ববর্তী লেখায় ব্যবহৃত হয়নি।

উদ্ধৃতি ত্রুটি: <references>-এ সংজ্ঞায়িত "জীবনের অস্তিত্ব" নামসহ <ref> ট্যাগ পূর্ববর্তী লেখায় ব্যবহৃত হয়নি।

লুয়া ত্রুটি package.lua এর 80 নং লাইনে: module 'মডিউল:উদ্ধৃতি/রূপরেখা' not found।

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা