কুররাতু আইয়ুন: যে জীবন জুড়ায় নয়ন
কুররাতু আইয়ুন: যে জীবন জুড়ায় নয়ন লেখক ডা. শামসুল আরেফীন এবং সম্পাদক করেন আবদুল্লাহ আল মাসউদ এর একটি উল্লেখযোগ্য বই। বইটি প্রকাশ করেছে মাকতাবাতুল আসলাফ। এই বইটি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে, যেখানে শুধুমাত্র পেশাগত এবং অর্থনৈতিক সাফল্যের উপর জোর দেওয়া হয়। এটি মানবজীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেমন পারিবারিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন, যা প্রথাগত শিক্ষায় উপেক্ষিত থাকে, সেগুলোর উপর আলোকপাত করে।
পটভূমি ও বিষয়বস্তু
সম্পাদনাবইটি মূলত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা দিয়ে শুরু হয়েছে। লেখক যুক্তি দিয়েছেন যে, বর্তমান শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র ভালো কর্মচারী বা পুঁজিবাদের সেবক হিসেবে গড়ে তোলে, যেখানে পেশাগত সাফল্য এবং অর্থ উপার্জনই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে দেখানো হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে, ভালো ক্যারিয়ার গড়াকেই জীবনের চূড়ান্ত কামিয়াবি হিসেবে চিত্রিত করা হয় এবং বেশি বেশি বস্তুগত অর্জনকে সফলতার মাপকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
বইটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, চাকরি যেমন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, তেমনই বিয়ে, সন্তান জন্মদান এবং তাদের লালন-পালনও কি জীবনের প্রধান দায়িত্ব নয়? যদি প্রচলিত শিক্ষা 'ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গড়ে তোলা'র দাবি করে, তবে ভালো চাকুরের পাশাপাশি ভালো স্বামী, ভালো বাবা বা ভালো সন্তান হওয়ার সিলেবাস কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয় না? লেখক মতপ্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা ব্যক্তির একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে আগ্রহী নয়, বরং কেবল তার কর্মদক্ষতা বা 'সার্ভিসটুকু' নিতে আগ্রহী। তাদের কাছে ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের সংকট, যেমন বিবাহবিচ্ছেদ বা বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি দায়িত্বের অবহেলা, কোনো গুরুত্ব বহন করে না।
'কুররাতু আইয়ুন: যে জীবন জুড়ায় নয়ন' সেইসব 'অসূর্যম্পশ্যা' বা অনালোচিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে, যা কখনোই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার আলোর মুখ দেখেনি। এটি মানবজীবনের সামগ্রিক দিকগুলো, যেমন পারিবারিক মূল্যবোধ, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ, এবং সামাজিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে। বইটি পাঠককে একটি সুষম ও অর্থপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়, যেখানে পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুখ এবং আত্মিক প্রশান্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডা. শামসুল আরেফীন তার অন্যান্য বইয়ের মতো এখানেও ইসলামি আদর্শ ও জীবনধারার আলোকে বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ের যৌক্তিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।