অবনী বাড়ি আছো
অবনী বাড়ি আছো শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি কালজয়ী আধুনিক বাংলা কবিতা। এটি বারো পঙ্ক্তির রসোত্তীর্ণ কবিতা এবং শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ধর্মে আছো জিরাফেও আছো কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত, যা ১৯৬৫ সালের অক্টোবরে (আশ্বিন ১৩৭২ বঙ্গাব্দ) বীক্ষণ প্রকাশ ভবন কর্তৃক প্রকাশিত হয়। কবিতাটি পাঠকপ্রিয়, বহুল প্রচারিত এবং আবৃত্তির কবিতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। কবিতায় একান্ত ব্যক্তিগত হাহাকারকে সর্বজনীন বিষণ্নতায় রূপান্তরিত করা হয়েছে।
রচনার পটভূমি
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]কবিতার 'অবনী' কোনো কাল্পনিক চরিত্র নয়, বাস্তবের একজন মানুষ। কবিতার অবনী হলেন অবনী ভট্টাচার্য — পশ্চিমবঙ্গের সুপরিচিত অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্যের বাবা। অবনী ভট্টাচার্য ছিলেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতেন।
বিষয়বস্তু ও শৈলী
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]কবিতাটি তিনটি স্তবকে বিভক্ত। প্রতিটি স্তবকের শেষে ধুয়ার মতো ফিরে আসে প্রশ্নটি — "অবনী, বাড়ি আছো?" রাত, বৃষ্টি, ঘুমন্ত পাড়া এবং দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ মিলে তৈরি করেছে এক গভীর বিষণ্ন পরিবেশ। কবির গভীর মৃত্যুচেতনা ও একাকিত্ব কবিতাটির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। সেই সংকট ব্যক্তিগত না হয়েও পাঠকের একান্ত নিজস্ব হয়ে ওঠে। প্রকৃতি ও পরিবেশের চিত্রায়ন কবিতায় বিশেষভাবে উপস্থিত — "বৃষ্টি পড়ে এখানে বারো মাস", "মেঘ গাভীর মতো চরে"।
কাব্যগ্রন্থ পরিচিতি
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]ধর্মে আছো জিরাফেও আছো শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের শিরোনামেই তার অদ্ভুত রসিকতা ও প্রচলিত চিন্তাভাবনার বাইরের জগৎ উন্মোচিত হয়। গ্রন্থটি ১৯৬৫ সালের অক্টোবর মাসে কলকাতার বীক্ষণ প্রকাশ ভবন থেকে প্রকাশিত হয়।
একই নামে উপন্যাস
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]আগস্ট ১৯৭৩ সালে শক্তি চট্টোপাধ্যায় অবনী বাড়ি আছো শিরোনামে একটি উপন্যাসও প্রকাশ করেন।
কবি পরিচিতি
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩–১৯৯৫) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ আধুনিক কবি, যিনি হাংরি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ এবং কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৮৩ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- শক্তি চট্টোপাধ্যায়
- ধর্মে আছো জিরাফেও আছো
- যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো
- হাংরি আন্দোলন
- কৃত্তিবাস (পত্রিকা)