অপরাজিত
অপরাজিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস। এটি তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস।[১] উপন্যাসটি প্রথমে ‘প্রবাসী’ মাসিকপত্রে ১৩৩৬ বঙ্গাব্দের পৌষ সংখ্যা থেকে ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।[২]
প্রকাশনা
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসটির আকার বড় হওয়ায় এটি প্রথম গ্রন্থাকারে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। প্রথম ভাগ ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে এবং দ্বিতীয় ভাগ একই বছরের ফাল্গুন মাসে প্রকাশিত হয়। প্রথম ভাগের প্রকাশকাল এপ্রিল ১৯৩২ এবং দ্বিতীয় ভাগের প্রকাশকাল মে ১৯৩২। উভয় খণ্ডের প্রকাশক ছিলেন সজনীকান্ত দাস এবং গ্রন্থটি রঞ্জন প্রকাশালয় থেকে প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ডের মূল্য ছিল দুই টাকা চার আনা এবং দ্বিতীয় খণ্ডের মূল্য দুই টাকা। পরবর্তীকালে ‘অপরাজিত’ দুই খণ্ডের পরিবর্তে এক খণ্ডে প্রকাশিত হতে থাকে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাসটি ‘মাতৃদেবীকে’ উৎসর্গ করেন।
নামকরণ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]‘অপরাজিত’ প্রকাশের আগে লেখক উপন্যাসটির সম্ভাব্য নাম ‘আলোর সারথি’ নির্ধারণ করেছিলেন। ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের সময় উপন্যাসটির নাম পরিবর্তন করে ‘অপরাজিত’ রাখা হয়।
কাহিনির ধারাবাহিকতা
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]‘অপরাজিত’ পথের পাঁচালী উপন্যাসে বর্ণিত অপু-কাহিনির সম্প্রসারণ। এতে অপু চরিত্রের পরবর্তী জীবন, শিক্ষা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মানসিক বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তীকালে অপুর সন্তান কাজলকে কেন্দ্র করে আরও একটি কাহিনি রচনার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তাঁর দিনলিপি ‘তৃণাঙ্কুর’-এ অপু চরিত্রকে নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করার এবং চরিত্রটিকে বিদায় দেওয়ার অনুভূতির কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে কাজলসহ কয়েকটি চরিত্রকে নিয়ে তাঁর সৃজনশীল পরিকল্পনার কথাও সেখানে প্রকাশ পেয়েছে।
তবে কাজলকে কেন্দ্র করে কাহিনিটি সম্পূর্ণ করার আগেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীকালে তাঁর একমাত্র পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় অপু-কাহিনির তৃতীয় পর্ব হিসেবে ‘কাজল’ রচনা করেন। বিভূতিভূষণের মৃত্যুর কিছু আগে ‘কথাসাহিত্য’ পত্রিকায় ‘কাজল কেন লিখব’ শিরোনামে তাঁর একটি রচনা প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে একই পত্রিকায় ১৩৫৭ বঙ্গাব্দের পৌষ সংখ্যা থেকে ‘কাজল’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। এ থেকে ধারণা করা হয়, তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পিতার অসমাপ্ত পরিকল্পনাকে অনুসরণ করেই ‘কাজল’ রচনা করেছিলেন।