নারাচ
নারাচ দেবারতি মুখোপাধ্যায় রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস, যা আগস্ট ২০২০ সালে পত্রভারতী থেকে প্রকাশিত হয়। নারাচ মহাভারতের সময়কার এক অদ্ভুত অস্ত্র। লোহার তৈরি এই অস্ত্রে একসাথে একাধিক মানুষকে ধরাশায়ী করা যেত। লেখক এই রূপকটিকে কেন্দ্রে রেখেছেন — সমাজের সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষেরাই আসলে সেই নারাচ। উপন্যাসটির সিকুয়েল মগ্ননারাচ।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]১৮৮৭ সালের ২৫শে মে হাওড়ার চাঁদপাল ঘাট থেকে স্যার জন লরেন্স নামক এক প্রকাণ্ড জাহাজ মহাসমারোহে রওনা দিয়েছিল পুরীর উদ্দেশ্যে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় এবং সামর্থ্যের তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রীগ্রহণে জাহাজটির সলিল সমাধি ঘটে। মৃত্যু হয় সাড়ে সাতশো জন মানুষের, যাদের অধিকাংশই মহিলা। নেটিভ বলেই হয়তো সেভাবে আলোড়ন পড়েনি সমাজে। টাইটানিক ডুবির প্রায় পঁচিশ বছর আগের এই মর্মান্তিক ঘটনা এই উপন্যাসের সূচনাবিন্দু।
উপন্যাসে ব্রিটিশদের নির্মম দাসপ্রথা, প্রতারণা, নারীদের প্রতি ব্রাহ্মণ ও সমাজের অবিচার, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং উচ্চবর্ণীয় ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আছে। পাশাপাশি এসেছেন ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং কিঞ্চিৎ রবীন্দ্রনাথও। সজ্জন ব্রাহ্মণ, উচ্চবংশীয় কুলীনদের নোংরামো, মানুষের নীচতা, অসহায় মানুষদের প্রতিবাদী সত্তা — সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিককার বাংলার এক পূর্ণাঙ্গ চিত্র।
নারাচ সিরিজ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]এই উপন্যাসটি একটি দুই-পর্বের সিরিজের প্রথম বই। দ্বিতীয় পর্ব মগ্ননারাচ, যেখানে কাহিনি আরও বিস্তৃত হয়ে গুপ্তসাম্রাজ্যের প্রেক্ষাপটে ছড়িয়ে পড়েছে।