তিতাস একটি নদীর নাম

ARI (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ২২:৪৫, ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ ("{{তথ্যছক বই | নাম = তিতাস একটি নদীর নাম | চিত্র = | চিত্রের_ক্যাপশন = | লেখক = অদ্বৈত মল্লবর্মণ | প্রকাশনার স্থান = বাংলাদেশ (ঢাকা) | ভাষা = বাংলা | মিডিয়া ধরন..." দিয়ে পাতা তৈরি)

তিতাস একটি নদীর নাম বাঙালি কথাসাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস এবং তার অমর সাহিত্যকীর্তি। 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি আর বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণোজ্জ্বল উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৩৫২ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তার মৃত্যুর কয়েক বছর পর উপন্যাসটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। অনেক সুধীজনের মতে উপন্যাসটি সমগ্র বিশ্বের নদীমাতৃক জেলে জীবনোপাখ্যানের মহাকাব্য। উপন্যাসটি ইংরেজিতে A River Called Titas নামে পরিচিত।

তিতাস একটি নদীর নাম
নাম তিতাস একটি নদীর নাম
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মণ


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশনার স্থান বাংলাদেশ (ঢাকা)



বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় মালো সম্প্রদায়, নদীকেন্দ্রিক জীবন, জেলে সমাজ, দারিদ্র্য ও সংগ্রাম, লোকজীবন
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার ও পেপারব্যাক

পাণ্ডুলিপির ইতিহাস

উপন্যাসটি প্রথমে মাসিক পত্রিকা মোহাম্মদীতে প্রকাশিত হয়েছিল। কয়েকটি অধ্যায় মোহাম্মদীতে মুদ্রিত হওয়ার পর উপন্যাসটির মূল পাণ্ডুলিপি রাস্তায় হারিয়ে যায়। বন্ধু-বান্ধব ও অত্যাগ্রহী পাঠকদের আন্তরিক অনুরোধে তিনি পুনরায় কাহিনীটি লেখেন। কাঁচড়াপাড়া হাসপাতালে ভর্তির আগে এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি বন্ধু-বান্ধবকে দিয়ে যান।

বিষয়বস্তু

গোকর্ণঘাটের তিতাস তীরবর্তী লোকালয়, যেখানে লেখক জন্মেছিলেন, সেই মালোপাড়াই এই উপন্যাসের পটভূমি। শ্রমজীবি মালোদের শাশ্বত জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে। তিতাস নদীর কূল ঘেঁষে বসবাসকারী মালো (জেলে) সম্প্রদায়ের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে থাকা জীবনসংগ্রামের ইতিকথাই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। নদীর মতোই কাহিনি বহমান — জন্ম, বিবাহ, প্রেম, বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক সম্প্রদায়ের ক্রমক্ষয়ের গল্প বলেছেন লেখক।

গঠন

উপন্যাসটি ৪টি অংশে বিভক্ত এবং প্রতিটি অংশে ২টি করে উপ-অংশ রয়েছে। অর্থাৎ মোট ৮টি অংশে উপন্যাসটি বিস্তৃত। অংশগুলির শিরোনাম হলো:

  • তিতাস একটি নদীর নাম
  • উজান তলার ঘাটে
  • বড় হয়ে উঠছে
  • তিতাস একটি মরা নদীর নাম

প্রধান চরিত্রসমূহ

তিতাস নদীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এই উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মধ্যে কিশোর, সুবল, তিলক চাঁদ, বাসন্তী ও অনন্তের মা প্রধান।

  • বাসন্তী: উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী নারীচরিত্র; বাসন্তী বৈরী শক্তির বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী চরিত্র।
  • কিশোর: তরুণ মালো যুবক।
  • সুবল: কিশোরের বন্ধু।
  • তিলক চাঁদ: মালো সমাজের প্রবীণ চরিত্র।
  • অনন্ত: উপন্যাসের শেষ প্রজন্মের প্রতীক।
  • অনন্তের মা: করুণ মাতৃচরিত্র।
  • তিতাস নদী: তিতাস নদী জেলে জীবনের উৎস ও প্রতীক।

অনুবাদ

উপন্যাসটি ইতোমধ্যে ইংরেজি, ফারসি, উড়িয়া প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ইংরেজি অনুবাদটি A River Called Titas নামে প্রকাশিত হয়েছে।

চলচ্চিত্র রূপান্তর

উপন্যাসের কাহিনিকে উপজীব্য করে চলচ্চিত্রস্রষ্টা ঋত্বিক কুমার ঘটক ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে তিতাস একটি নদীর নাম শিরোনামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ছবিটি নির্মাণের প্রেরণা সম্পর্কে ঋত্বিক ঘটক বলেছিলেন, এটি পূর্ব বাংলার একটি খণ্ডজীবনের সৎ লেখা এবং এর মধ্যে প্রচুর নাটকীয় উপাদান ও প্রাচীন সঙ্গীতের টুকরো রয়েছে।

আরও দেখুন

সূত্র

বহিঃসংযোগ