মিডনাইট'স চিলড্রেন
মিডনাইট'স চিলড্রেন (ইংরেজি: Midnight's Children) ব্রিটিশ-ভারতীয় লেখক সালমান রুশদি রচিত একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। উপন্যাসটি জাদুকরী বাস্তববাদ (Magical Realism) এবং উত্তর-উপনিবেশবাদী সাহিত্যের একটি সার্থক উদাহরণ। এটি ১৯৮১ সালে 'বুকার পুরস্কার' এবং পরবর্তীতে দুইবার (১৯৯৩ ও ২০০৮ সালে) 'বুকার অফ বুকার্স' সম্মাননা লাভ করে।
বিষয়বস্তু
সম্পাদনাউপন্যাসটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ভারতের স্বাধীনতা ও দেশভাগের প্রেক্ষাপটে। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র সলিম সিনাই ঠিক সেই মুহূর্তে জন্মগ্রহণ করে, যখন ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করছিল (১৫ই আগস্ট ১৯৪৭, রাত ১২টা)। সলিম আবিষ্কার করে যে, সেই মধ্যরাতে ভারতে জন্ম নেওয়া ১,০০১টি শিশুর সবারই অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে। সলিম তাদের মধ্যে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়। সলিমের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাপ্রবাহের সাথে ভারতের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিবর্তনের এক চমৎকার মেলবন্ধন এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
শৈলী ও বৈশিষ্ট্য
সম্পাদনারুশদি এই উপন্যাসে 'জাদুকরী বাস্তববাদ' বা 'ম্যাজিকাল রিয়ালিজম' শৈলী ব্যবহার করেছেন। এখানে রূপক এবং প্রতীকের মাধ্যমে ইতিহাসের জটিলতাকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এতে ভারতীয় ইংরেজি ও সংস্কৃতির ছোঁয়া স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। সলিম সিনাইয়ের জীবনের উত্থান-পতন আসলে স্বাধীন ভারতেরই স্বপ্নভঙ্গ এবং পুনর্গঠনের প্রতিচ্ছবি।
প্রধান চরিত্রসমূহ
সম্পাদনা- সলিম সিনাই: উপন্যাসের কথক এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- শিবা: সলিমের প্রবল প্রতিপক্ষ, যার জন্মও একই মুহূর্তে হয়েছিল।
- পার্বতী: সলিমের সহযাত্রী এবং একজন জাদুকর।
- পদ্মা: সলিমের জীবনের শ্রোতা এবং সেবিকা।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
সম্পাদনা'মিডনাইট'স চিলড্রেন' প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়। এর প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সম্মাননাসমূহ:
- বুকার পুরস্কার (১৯৮১): বছরের সেরা উপন্যাসের জন্য।
- বুকার অফ বুকার্স (১৯৯৩): বুকার পুরস্কারের ২৫তম বার্ষিকীতে বিগত ২৫ বছরের সেরা বই হিসেবে।
- দ্য বেস্ট অফ দ্য বুকার (২০০৮): পুরস্কারের ৪০তম বার্ষিকীতে সর্বকালের সেরা বুকার জয়ী বই হিসেবে।