মেঘনাদবধ কাব্য
মেঘনাদবধ কাব্য বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাহিত্যিক মহাকাব্য এবং মাইকেল মধুসূদন দত্ত-এর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি, যা ১৮৬১ সালে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। নয় সর্গে বিভক্ত এই কাব্যটি রামায়ণের কাহিনী রাবণের দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত করে রামকে আক্রমণকারী এবং মেঘনাদকে ট্র্যাজিক বীর হিসেবে চিত্রিত করে। অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এটি বাংলা কাব্যে পাশ্চাত্য মহাকাব্যের প্রভাবের প্রথম সফল প্রয়োগ।
বিষয়বস্তু
কাব্যের সূচনায় বীরবাহু (রাবণের পুত্র) নিহত হওয়ার সংবাদে রাবণ শোকে মুহ্যমান হন এবং চিত্রাঙ্গদা (বীরবাহুর মা) সীতাহরণের জন্য রাবণকে দায়ী করেন। মেঘনাদ প্রমোদে মত্ত অবস্থা থেকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার সংকল্প করেন এবং রাবণ তাঁকে সেনাপতি অভিষেক করেন। মেঘনাদ নিকুম্ভিলা পূজা করে অপরাজেয় হন কিন্তু বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা ও লক্ষ্মণের ছলাকলায় অস্ত্রহীন অবস্থায় নিহত হন। প্রমীলা সতী হন এবং কাব্য কারুণ্য ও বীররসে সমাপ্ত হয়।
সাহিত্যিক গুরুত্ব
মেঘনাদবধ কাব্য বাংলা সাহিত্যে পাশ্চাত্য ক্লাসিক্যাল মহাকাব্যের প্রভাব এনে মিলটনের Paradise Lost-এর মতো পরাজিত পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে ট্র্যাজেডি রচনার নবীনতা যোগ করে। অমিত্রাক্ষর ছন্দ, বিশ্বকাব্যের উপাদান (হোমার, ভার্জিল, মিলটনের প্রভাব) এবং রাবণ-মেঘনাদকে নায়ক করে তোলার সাহসী প্রচেষ্টা এর বিশেষত্ব।[web:250] স্বামী বিবেকানন্দ এটিকে "বাংলা ভাষার মুকুটমণি" বলেছেন।
চরিত্রসমূহ
- মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ) – ট্র্যাজিক নায়ক; অসামান্য বীর কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত।
- রাবণ – মহাবীর পিতা, স্নেহময় রাজা, প্রজাপালক।
- প্রমীলা – মেঘনাদের স্ত্রী; পতিব্রতা ধর্মাচরণ করে সতী হন।
- লক্ষ্মণ – অন্যায় যুদ্ধকারী হিসেবে চিত্রিত।