নিজস্ব রমণী
নিজস্ব রমণী হল প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত একটি গভীর জীবনবোধ ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণধর্মী সামাজিক উপন্যাস। ১৩৮৯ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে (১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ) এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে লেখিকা দাম্পত্য জীবনের জটিলতা, মধ্যবিত্ত সংসারের টানাপোড়েন এবং মানবিক সম্পর্কের এক ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরেছেন। গল্পের নায়ক মহিম হালদার একজন শৌখিন ও কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক মানুষ, যিনি তার চিরাচরিত জীবনযাত্রার বাইরে গিয়ে এক নতুন জীবন দর্শনের মুখোমুখি হন।
বিষয়বস্তু
সম্পাদনাউপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মহিম হালদার এবং তার স্ত্রী দেবযানীকে কেন্দ্র করে। মহিম একজন সরকারি চাকুরে, যিনি রিটায়ারমেন্টের পরেও কলকাতার পটলডাঙ্গার 'নবদুর্গা মেসে' থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এই সিদ্ধান্ত পরিবার ও সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করে। মহিমের গ্রামের বাড়ি গোপীচন্দনপুরে তার স্ত্রী দেবযানী একাই সংসারের হাল ধরে রেখেছেন। মহিম তার শৌখিনতা, আত্মপ্রেম এবং মেস জীবনের স্বাধীনতায় অভ্যস্ত, অন্যদিকে দেবযানী সংসারের দায়িত্ব ও কর্তব্যের চাপে পিষ্ট।
গল্পে মোড় নেয় যখন মহিম মেসে তার নিজের জন্য সাজানো ঘরটি এক অসহায় দম্পতি, সুভাষ ও দীপালীকে ছেড়ে দেন। সুভাষ একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার এবং দীপালী এক দুঃস্থ পরিবারের মেয়ে। তাদের ভালোবাসার টানে মহিম নিজের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেন। অন্যদিকে, মহিমের স্ত্রী দেবযানী তার অভিমান ও ক্ষোভ নিয়ে মহিমের কাছে চলে আসেন। শেষ পর্যন্ত মহিম ও দেবযানী তাদের দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে এক নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেন। মহিমের এই পরিবর্তন এবং আত্মত্যাগ গল্পের মূল উপজীব্য।
চরিত্রসমূহ
সম্পাদনা- মহিম হালদার: উপন্যাসের নায়ক। শৌখিন, আত্মকেন্দ্রিক কিন্তু শেষ পর্যন্ত উদার ও মানবিক। তিনি অবসরের পরেও মেসে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
- দেবযানী (দেবী): মহিমের স্ত্রী। কর্মঠ, দায়িত্বশীল এবং অভিমানী। সংসারের চাপে তিনি নিজের সত্তাকে হারিয়ে ফেলেছেন।
- প্রতাপ: মহিমের ছোট ভাই। সংসারের কর্তা এবং কিছুটা স্বার্থপর।
- মোনা: গ্রামের এক ভবঘুরে চরিত্র, যে তার 'নিজস্ব রমণী' বা মনের মানুষের সন্ধানে ঘোরে। মহিম তার মধ্যে জীবনের এক ভিন্ন দর্শন খুঁজে পান।
- সুভাষ ও দীপালী: এক প্রেমিক যুগল, যাদের জন্য মহিম তার মেসের ঘর ছেড়ে দেন।
বিশেষ উদ্ধৃতি
সম্পাদনা- "নিজস্ব রমণী, খুঁজে পেয়েছ। পেতেই তো হবে। জেবনটা তো আর বরবাদ দিতে পারে না। জেবন এতো সস্তা না কি?" - মহিম
- "মানুষের নিজের হাতের মুঠোয় অগাধ ঐশ্বর্য, তবু সে দীন-দরিদ্রের ভূমিকায় ঘুরে বেড়ায়।"