চৈতালি ঘূর্ণি
চৈতালী-ঘূর্ণি হলো বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস। ১৯৩১ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। গ্রামীণ সমাজের অবক্ষয় এবং শোষিত মানুষের জেগে ওঠার আখ্যান হিসেবে এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
পটভূমি ও ইতিহাস
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসটির বীজ নিহিত ছিল ১৯২৮ সালে সচিত্র কালিকলম পত্রিকায় প্রকাশিত তারাশঙ্কর শ্মশানের পথে নামক একটি ছোটগল্পে। পরবর্তীতে লেখক সেটিকে উপন্যাসের রূপ দেন। ব্রিটিশ বিরোধী আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণ করার সময় তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এই উপন্যাসের প্লটটি চিন্তা করেছিলেন এবং জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এটি রচনা করেন। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তারাশঙ্কর তাঁর নিজস্ব সাহিত্যিক স্বর খুঁজে পান।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]চৈতালী-ঘূর্ণি উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজকাঠামোর ভাঙন এবং দরিদ্র মানুষের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। এর মূল কেন্দ্রে রয়েছে চাষি গোষ্ঠ ও তার স্ত্রী দামিনীর করুণ জীবনগাথা। অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা এবং কলকারখানার শ্রমিক হিসেবে মানবেতর জীবন যাপন করার বাস্তব চিত্র এখানে অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসে গান্ধীবাদী সুরেন ও শিবকালীর অনুপ্রেরণায় শ্রমিকদের ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা এবং শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- গোষ্ঠ (প্রধান চরিত্র, শোষিত কৃষক ও শ্রমিক)
- দামিনী (গোষ্ঠর স্ত্রী)
- সুরেন ও শিবকালী (আদর্শবাদী চরিত্র)