অরণ্য বহ্নি
অরণ্য বহ্নি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি ঐতিহাসিক পটভূমিসমৃদ্ধ উপন্যাস, যেখানে উনিশ শতকের মধ্যভাগে সংঘটিত সাঁওতাল বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়েছে। ইংরেজ শাসক ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে সিধু‑কানুর নেতৃত্বে সাঁওতালদের সশস্ত্র সংগ্রাম এই উপন্যাসে মানবিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিত্রিত হয়েছে।
বিষয়বস্তু
অরণ্য বহ্নি উপন্যাসের পটভূমি ১৮৫০‑এর দশকের রাজমহল ও সাঁওতাল পরগনার অভ্যন্তরীণ অঞ্চল, যেখানে জমি কেড়ে নেওয়া, মহাজনি সুদ, পুলিশের অত্যাচার ও নানাবিধ শোষণে সাঁওতাল জনজীবন ক্ষতবিক্ষত হয়ে ওঠে। এই অত্যাচারের প্রতিক্রিয়ায় সিধু, কানু ও আরও কয়েকজন নেতা গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দেন, যা অরণ্যের ভিতর থেকে ধীরে ধীরে সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
কাহিনিতে সাঁওতাল গ্রাম, উৎসব, রীতিনীতি, গান, নাচ, শিকার, জমি ও জঙ্গলকে ঘিরে তাদের নিবিড় সম্পর্কের ছবি যেমন আছে, তেমনি আছে শোষণ ও প্রতিরোধের ইতিহাস। উপন্যাসে সাঁওতাল বিদ্রোহের সামরিক পরিণতি ছাড়াও সাধারণ মানুষের আশা‑নিরাশা, ভাঙন ও আত্মত্যাগের কাহিনি মর্মস্পর্শীভাবে উঠে আসে।
চরিত্রসমূহ
- সিধু – সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম নেতা; শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সংগ্রামী ও করিশমাটিক ব্যক্তিত্ব।
- কানু – সিধুর ভাই/সহযোদ্ধা; বিদ্রোহ সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী চরিত্র।[web:58]
- বিভিন্ন সাঁওতাল গ্রামবাসী পুরুষ‑নারী – দলগতভাবে আদিবাসী সমাজের জীবন, কষ্ট, উৎসব ও সংগ্রামের বহুমাত্রিক রূপ বহন করে।
- জমিদার, মহাজন, দালাল ও প্রশাসনিক কর্মচারীরা – উপনিবেশিক শোষণযন্ত্রের প্রতিনিধি চরিত্রসমূহ, যাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে।