অন্তর্যামী
অন্তর্যামী হলো প্রখ্যাত বাঙালি রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং কবি চিত্তরঞ্জন দাশ (দেশবন্ধু) রচিত একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বাংলা ভক্তিমূলক কাব্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বৈষ্ণব পদাবলির ভাবধারা এবং আধ্যাত্মিক আকুলতা এই কাব্যগ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]'অন্তর্যামী' কাব্যের মূল উপজীব্য হলো স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির চিরন্তন টান এবং আধ্যাত্মিক সমর্পণ। চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর এই কাব্যগ্রন্থে পরমাত্মার সাথে জীবাত্মার মিলনাকাঙ্ক্ষাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এতে প্রথাগত ধর্মের চেয়ে হৃদয়ের গভীর আর্তি ও ভালোবাসার প্রাধান্য বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাঁর আগের কাব্যগ্রন্থ 'সাগর-সঙ্গীত'-এর মতো এখানেও অসীমের প্রতি কবির এক ধরণের মরমী ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে।
প্রকাশনা ইতিহাস
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]বইটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এর প্রকাশক ছিলেন শিশির কুমার দত্ত (২৫, সুকিয়াস স্ট্রিট, কলকাতা)। গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছিল বিখ্যাত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ইউ রায় অ্যান্ড সন্স থেকে, যার স্বত্বাধিকারী ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। কার্তিক চন্দ্র বসু এই মুদ্রণকার্যের তত্ত্বাবধান করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে বইটির মূল্য ছিল মাত্র ৮ আনা।
কাব্যশৈলী ও প্রভাব
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]চিত্তরঞ্জন দাশের কবিতায় রবীন্দ্র-প্রভাবের সমান্তরালে বৈষ্ণব সহজিয়া ভাবনার এক চমৎকার মিশেল পাওয়া যায়। 'অন্তর্যামী' কাব্যগ্রন্থে তিনি সহজ সরল ভাষায় গূঢ় আধ্যাত্মিক তত্ত্ব প্রকাশ করেছেন। তৎকালীন সময়ের পাঠক ও সমালোচকদের কাছে তাঁর এই মরমী কবিসত্তা বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং চিত্তরঞ্জন দাশের কাব্যপ্রতিভার প্রশংসা করেছিলেন।