বিষয়বস্তুতে চলুন
🎉 বইপিডিয়ার ১ বছর পূর্তি! · আমাদের ফেসবুক পেজ অনুসরণ করুন.

পদ্মা নদীর মাঝি

বইপিডিয়া থেকে
ARI (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৮:২৩, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ ("{{তথ্যছক বই | নাম = পদ্মা নদীর মাঝি | চিত্র = | চিত্রের_ক্যাপশন = | লেখক = মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | প্রকাশনার স্থান = ভারত (অবিভক্ত বাংলা) | ভাষা = বাংলা | ধরন = আঞ্চল..." দিয়ে পাতা তৈরি)
পদ্মা নদীর মাঝি
নাম পদ্মা নদীর মাঝি
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক ডি. এম. লাইব্রেরি
প্রকাশনার স্থান ভারত (অবিভক্ত বাংলা)
প্রকাশনার তারিখ মে ১৯৩৬



বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় ধীবর জীবনের জীবনসংগ্রাম, সামাজিক বাস্তববাদ, প্রবৃত্তি
মিডিয়া ধরন মুদ্রণ (হার্ডকভার ও পেপারব্যাক)

পদ্মা নদীর মাঝি হলো আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি কালজয়ী উপন্যাস। ১৯৩৬ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। পদ্মা নদীর তীরের জেলেপাড়ার মানুষের জীবনসংগ্রাম, দারিদ্র্য এবং মানব মনের জটিল প্রবৃত্তি এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।

বিষয়বস্তু

উপন্যাসটির পটভূমি পূর্ববঙ্গের পদ্মা নদীর তীরের কেতুপুর গ্রাম। এখানকার ধীবর বা জেলে সম্প্রদায়ের মানুষের অতিসাধারণ কিন্তু কঠিন জীবনযাত্রার চিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুবের মাঝি, যার জীবনের টানাপোড়েন, দারিদ্র্যের সাথে লড়াই এবং প্রতিবেশী শ্যালিকা কপিলার প্রতি আকর্ষণ অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া এবং তার তিলে তিলে গড়ে তোলা ময়না দ্বীপ-এর স্বপ্ন উপন্যাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষের নৈতিকতা এবং প্রবৃত্তির যে দ্বন্দ্ব, তা-ই এই কাহিনীর মূল সুর।

প্রকাশনা ইতিহাস

পদ্মা নদীর মাঝি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হওয়ার আগে ১৯৩৪ সাল থেকে পূর্বাশা পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৩৬ সালে কলকাতার ডি. এম. লাইব্রেরি থেকে এটি প্রথম বই হিসেবে বাজারে আসে। প্রকাশের পরপরই এটি পাঠক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পরবর্তীকালে বহু ভাষায় অনূদিত হয়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র

  • কুবের: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, একজন দরিদ্র ও পরিশ্রমী মাঝি।
  • কপিলা: কুবেরের শ্যালিকা, যার চঞ্চলতা ও রহস্যময় ব্যক্তিত্ব কুবেরকে আকৃষ্ট করে।
  • হোসেন মিয়া: এক রহস্যময় ও প্রভাবশালী ব্যক্তি, যে জনশূন্য ময়না দ্বীপে বসতি গড়তে চায়।
  • মালা: কুবেরের পঙ্গু স্ত্রী।
  • গণেশ: কুবেরের বন্ধু ও মাছ ধরার সঙ্গী।

প্রভাব ও মূল্যায়ন

বাংলা কথাসাহিত্যে পদ্মা নদীর মাঝি একটি মাইলফলক। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথাগত রোমান্টিকতা বর্জন করে জীবনের রূঢ় বাস্তবতাকে এখানে তুলে ধরেছেন। ভাষাশৈলী এবং আঞ্চলিক শব্দের সার্থক প্রয়োগ এই উপন্যাসকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছে। এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যার মধ্যে গৌতম ঘোষ পরিচালিত পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩) উল্লেখযোগ্য।

আরও দেখুন

সূত্র