চিলেকোঠার সেপাই

Md Joni Hossain (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৬:৩২, ১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ ("'''চিলেকোঠার সেপাই''' হচ্ছে একটি বাংলা ভাষা চিরায়ত উপন্যাস বই৷ বই লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। বইটি দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড(ইউ পি এল) থেকে প্রকাশ হয়। ==প্রকাশ== বইটি ২..." দিয়ে পাতা তৈরি)

চিলেকোঠার সেপাই হচ্ছে একটি বাংলা ভাষা চিরায়ত উপন্যাস বই৷ বই লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। বইটি দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড(ইউ পি এল) থেকে প্রকাশ হয়।

প্রকাশ

বইটি ২৪তম মুদ্রণ ২০২৪ সালে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড(ইউ পি এল) প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হয়।

সারাংশ

চিলেকোঠার সেপাই” বইটি সর্ম্পকে কিছু তথ্যঃ ১৯৬৯ সালের পূর্ব বাংলা। কী এক জীবনস্পর্ধী মন্ত্রের মুখে বিস্ফোরিত চারদিক। কেঁপে ওঠে নগর ঢাকা। কাঁপে শহর, বন্দর, গঞ্জ, নিভৃত গ্রাম, এমনকি যমুনার দুর্গম চর এলাকা। কখনো কঠিন বুলেটের আঘাতে, কখনো ঘুম-ভেঙ্গে-দেওয়া আঁধির ঝাপটায়। মিটিং আর মিছিল আর গুলিবর্ষণ আর কারফ্যু-ভাঙ্গা আর গণআদালত - সব জায়গায় ফেটে পড়ে ক্ষোভ ও বিদ্রোহ। সব মানুষেরই হৃদয়ের অভিষেক ঘটে একটি অবিচল লক্ষ্যে - মুক্তি। মুক্তি? তার আসার পথও যে একরকম নয়। কারো স্লোগান, ‘দিকে দিকে আগুন জ্বালো’, কারো ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’। আরোপ করা সামরিক শাসনের নির্যাতন শুরু হলে বন্ধুরা যখন বিহ্বল, ওসমানের ডানায় তখন লাগে প্রবল বেগ। সহনামী কিশোরকে সে চুম্বনে রক্তাক্ত করে, বিকৃত যৌনতার বশে নয়, আত্মপ্রেমে পরাজিত হয়ে। ওসমান ‘একজন’। সে এক নার্সিসাস। কিন্তু এখানে তার শেষ নয়। নিজের খাঁচা থেকে বেরুবার জন্য তার ডানা ঝাপটানো পরিণত হয় প্রচন্ড ক্রোধে। রঞ্জুকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার জন্য সে প্রানান্ত উদ্যোগ নেয়। এ কি তার আত্মপ্রেম বিসর্জনের প্রস্তুতি? পরিচিত সবাই ওসমানকে চিহ্নিত করে বদ্ধ পাগল হিসেবে। অনুরাগী বন্ধুরা তাকে বন্দী করে রাখে নিজের ঘরে। এখন এই বিচ্ছিন্ন ঘর থেকে ওসমানকে উদ্ধার করতে পারে কে? এক-নেতায় বিশ্বাসী আলাউদ্দিন? ভোটের রাইট-প্রার্থী আলতাফ? রাজনীতি-বিশ্লেষক বামপন্থী আনোয়ার? - না এরা কেউ নয়। চিলেকোঠার দুর্গ থেকে ওসমানকে বেরিয়ে পড়তে প্ররোচনা দেয় হাড্ডি খিজির যে নিজের বাপের নাম জানে না, যে বড় হয়েছে রাস্তায় রাস্তায়, যার মা বৌ দুজনেই মহাজনের ভোগ্য এবং গণঅভ্যুত্থানের সদস্য হওয়ার অপরাধে মধ্যরাতে কারফ্যু-চাপা রাস্তায় যে প্রাণদন্ডে দন্ডিত হয় মিলিটারির হাতে। নিহত খিজিরের আমন্ত্রণে ও আহ্বানে সক্রিয় সাড়া দিয়ে ওসমান ঘরের তালা ভাঙে। সবার অগোচরে সে বেরিয়ে আসে রাস্তায়, কারফ্যুর দাপট অগ্রাহ্য করে। তার সামনে এখন অজস্র পথ। পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ - সব দিক তার খোলা। ওসমান যেদিকেই পা বাড়ায় সেদিকেই পূর্ব বাঙলা।

বইটি পড়ে আমরা ১৯৬৯ সালের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিত্রের কিছু পরিচয় পাই।আমরা জানতে পারি পাকিস্তানিদের কাছ হতে কিভাবে ক্ষমতার পালাবদল হয়ে বাংলাদেশের জন্মের সূচনস হয়েছে কিন্তু এই অঞ্চলের ক্ষমতাহীন সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা চিলেকোঠার সেপাই বইটি ১৯৭১ সালের পুর্ব সময়কার অখ্যানভাগে রচতি। প্রচুর তথ্য বহুল বইটি পাঠকের মনে সেই সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে।

বহিঃসংযোগ