সাম্যবাদী
সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। বইটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে (পৌষ,১৩৩২) প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোয় বেশিরভাগই মানবিক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। [১][২]
কবিতাসমূহ
সম্পাদনাবইটিতে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
মূলভাব
সম্পাদনাকবিতাটিতে কাজী নজরুল ইসলাম বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াই সবচেয়ে বড় সম্মান। নজরুলের এই আদর্শ আজও মানুষের জীবনপথে প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তবে দুঃখজনকভাবে মানুষ এখনও সম্প্রদায়ের নামে রাজনীতি করে, দুর্বলকে শোষণ করে এবং এককে অন্যের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়।
কবিতায় নজরুল বলেন, "মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতেই সুরাসুর।" তিনি ধর্মের বাইরের চেয়ে অন্তরের ধর্মকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ধর্মগ্রন্থ পড়ে জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, সেটিকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে প্রয়োজন মানবিকতা। কবির মতে, মানুষের হৃদয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মন্দির বা কাবা নেই। তিনি সকল মত ও পথের ঊর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দিয়েছেন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবকেই তিনি একই মায়ের সন্তান বলে মনে করেছেন।
নজরুল মানবিক মেলবন্ধনের জন্য সংগীত রচনা করেছেন এবং বাণী ও সুরের মাধ্যমে মানবতার সুবাস ছড়াতে চেয়েছেন। ‘সাম্যবাদী’ কবিতায় তিনি বলেছেন, মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা তীর্থক্ষেত্রের মতোই পবিত্র হচ্ছে মানুষের হৃদয়। যদি হৃদয়ে হিংসা ও বিদ্বেষ না থাকে, সকলের প্রতি সমদর্শিতা থাকে, তাহলে পৃথিবী হয়ে উঠতে পারে সুখের আবাসস্থল।
সাম্যবাদের মূল দর্শন হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার থাকা। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কবিতার মাধ্যমে এই সাম্যের বাণীই প্রচার করেছেন এবং সমাজে সকল শ্রেণির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পেয়েছেন।