রানি মায়াবতীর অন্তর্ধান রহস্য

রানি মায়াবতীর অন্তর্ধান রহস্য হলো একটি জনপ্রিয় বাংলা কিশোর গোয়েন্দা কাহিনী, যার প্রধান চরিত্র শখের গোয়েন্দা জুটি এম. কে. (মদন) এবং টি. সি. (ট্যাপা), যারা নিজেদের 'যুগলরত্ন টিকটিকি' বলে পরিচয় দেয় । গল্পটি ১৯৫৩ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং এর প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছিলেন যুধাজিৎ সেনগুপ্ত ।

রানি মায়াবতীর অন্তর্ধান রহস্য
নাম রানি মায়াবতীর অন্তর্ধান রহস্য
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক আশাপূর্ণা দেবী


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক ভত্তক
প্রকাশনার স্থান কলকাতা, ভারত
প্রকাশনার তারিখ ১৯৫৩



বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় রহস্য, গোয়েন্দা কাহিনী, পারিবারিক ষড়যন্ত্র


বিষয়বস্তু

সম্পাদনা

গল্পের সূচনা হয় দৈনিক লোকবার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের মাধ্যমে, যেখানে উত্তরবঙ্গের পাথরগুড়ির প্রাচীন রাজপ্রাসাদ মণিমঞ্জিল থেকে ৯২ বছর বয়সী বৃদ্ধা রানি মায়াবতীর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায় । রানির নাতি এবং স্থানীয় এম.এল.এ রাজা জীবেন্দ্রনারায়ণ এই ঘটনায় দিশাহারা হয়ে পড়েন, যদিও জনমনে সন্দেহ জাগে যে সম্পত্তির লোভে তিনিই তার ঠাকুমাকে গুম করেছেন ।

রাজবাড়ির দেওয়ানজি রঘুনাথ ভট্টাচার্য, এক জ্যোতিষীর ভাইপোর পরামর্শে কলকাতায় এসে এই দুই শখের গোয়েন্দা, মদন ও ট্যাপার শরণাপন্ন হন । মদন ও ট্যাপা পর্যটক সেজে রাজবাড়িতে প্রবেশ করে এবং তদন্ত শুরু করে । তদন্তের মাধ্যমে তারা রাজবাড়ির অন্দরমহলে লুকিয়ে থাকা গোপন পথ, ষড়যন্ত্র এবং রানিকে অপহরণের নেপথ্যের আসল অপরাধীকে উন্মোচন করে। গল্পে পুরনো রাজবাড়ির পরিবেশ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং আধুনিক বনাম সেকেলে চিন্তাধারার সংঘাত ফুটে উঠেছে ।

প্রধান চরিত্র

সম্পাদনা
  • এম. কে. (মদন): ধীরস্থির এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন শখের গোয়েন্দা। সে নিজেকে এবং তার সহকারীকে 'যুগলরত্ন' বলে অভিহিত করে ।
  • টি. সি. (ট্যাপা/টিং সং): মদনের সহকারী ও বন্ধু। সে কিছুটা চঞ্চল স্বভাবের এবং নিজেকে 'বোকা' প্রমাণ করে তথ্য আদায় করতে পটু ।
  • রানি মায়াবতী: পাথরগুড়ি রাজবাড়ির ৯২ বছর বয়সী কর্ত্রী, যিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন ।
  • রাজা জীবেন্দ্রনারায়ণ: রানির নাতি এবং বর্তমান রাজা, যিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং আধুনিক মনস্ক ।
  • রঘুনাথ ভট্টাচার্য (দেওয়ানজি): রাজবাড়ির দীর্ঘদিনের বিশ্বাসী কর্মচারী, যিনি গোয়েন্দাদের কেসটি সমাধান করতে নিয়ে আসেন ।
  • শিবেন্দ্রনারায়ণ (শিবপদ সরকার): গল্পের খলনায়ক। ছোটবেলায় রাজবাড়িতে পালিত হলেও পরে বিতাড়িত হন এবং সম্পত্তির লোভে রানিকে অপহরণের ছক কষেন ।

তদন্ত ও রহস্যভেদ

সম্পাদনা

গোয়েন্দারা তদন্ত করতে গিয়ে রাজবাড়ির বাগানে সিগারেটের টুকরো এবং 'ফাইভ ফিফটি ফাইভ' ব্র্যান্ডের সিগারেটের প্যাকেট খুঁজে পায়, যা ছিল অপরাধীর উপস্থিতির অন্যতম প্রমাণ । তারা রানি মায়াবতীর শোবার ঘরের দেয়াল আলমারির ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি গোপন লিফট বা যান্ত্রিক ব্যবস্থা আবিষ্কার করে, যার মাধ্যমে রানিকে অজ্ঞান করে প্রাসাদের পেছনের জঙ্গলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল । তদন্তে জানা যায়, ভুয়া নার্স মিসেস ভঞ্চু (যে আসলে শিবেন্দ্রনারায়ণের স্ত্রী) এই অপহরণে সহায়তা করেছিল । শেষপর্যন্ত পুলিশি সহায়তায় রানিকে একটি শহরতলি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় এবং দোষীরা ধরা পড়ে ।

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা