পথের পাঁচালী বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি কালজয়ী উপন্যাস। ১৯২৯ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিল্ডুংসরোমান বা এক কিশোরের বেড়ে ওঠার গল্পের একটি সার্থক উদাহরণ। এটি বিভূতিভূষণের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজ, যা তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছে।

পথের পাঁচালী
নাম পথের পাঁচালী
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক রঞ্জন প্রকাশালয়
প্রকাশনার স্থান ভারত (কলকাতা)
প্রকাশনার তারিখ ১৯২৯
আইএসবিএন 9789849204039


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় গ্রামীণ জীবন, দারিদ্র্য, শৈশব ও প্রকৃতি
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার

বিষয়বস্তু

সম্পাদনা

উপন্যাসটি নিশ্চিন্দিপুর নামক এক নিভৃত গ্রামের দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের জীবনগাথা। কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে বালক অপু এবং তার দিদি দুর্গা। তাদের শৈশবের ছোট ছোট আনন্দ, কৌতূহল এবং প্রকৃতির সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক এখানে অতি নিপুণভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। অপুর বাবা হরিহর রায় একজন আদর্শবাদী কিন্তু দরিদ্র পুরোহিত, এবং মা সর্বজয়া সংসার সামলাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করেন। দারিদ্র্যের কঠোর বাস্তবতার মাঝেও ভাই-বোনের সরল জীবন এবং গ্রামীণ বাংলার রূপ এই উপন্যাসে এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে।

প্রধান চরিত্রসমূহ

সম্পাদনা
  • অপু: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, যার বিস্ময়ভরা চোখ দিয়ে পৃথিবীটাকে দেখা হয়েছে।
  • দুর্গা: অপুর চঞ্চল ও স্নেহময়ী দিদি, যে প্রকৃতির অকৃত্রিম সন্তান।
  • সর্বজয়া: অপুর মা, যিনি অভাবের সংসারে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলেন।
  • হরিহর: অপুর বাবা, যিনি একজন ঘরকুনো ও স্বপ্নে বিভোর মানুষ।
  • ইন্দির ঠাকরুন: পরিবারের এক বৃদ্ধা পিসিমা, যার ট্র্যাজিক জীবন কাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রভাব ও স্বীকৃতি

সম্পাদনা

এই উপন্যাসটি কেবল সাহিত্য হিসেবেই নয়, বরং চলচ্চিত্রের মাধ্যমেও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ১৯৫৫ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে তার প্রথম চলচ্চিত্র 'পথের পাঁচালী' নির্মাণ করেন, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

আরও দেখুন

সম্পাদনা

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা