ফ্রাংকেনস্টাইন
ফ্রাংকেনস্টাইন (ইংরেজি: Frankenstein; or, The Modern Prometheus) হল ইংরেজ লেখিকা মেরি শেলি রচিত একটি বিশ্ববিখ্যাত গথিক উপন্যাস। ১৮১৮ সালে এটি প্রথম বেনামে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৮২১ সালে ফ্রান্সের প্যারিস থেকে লেখকের নামসহ এর দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। এই উপন্যাসটিকে ইতিহাসের অন্যতম প্রথম এবং প্রভাবশালী বিজ্ঞান কল্পকাহিনী হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিষয়বস্তু
সম্পাদনাউপন্যাসের মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ভিক্টর ফ্রাংকেনস্টাইন নামক একজন তরুণ বিজ্ঞানীর পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। ভিক্টর ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন মৃতদেহের অংশ জোড়া দিয়ে একটি কৃত্রিম মানবসদৃশ প্রাণীর সৃষ্টি করেন। কিন্তু সৃষ্টির পর সেই প্রাণীর ভয়াবহ ও কুৎসিত রূপ দেখে ভিক্টর নিজেই আতঙ্কিত হয়ে তাকে বর্জন করেন। মানুষের অবহেলা, ঘৃণা ও একাকীত্ব থেকে সেই সৃষ্টিটি একসময় হিংস্র দানবে পরিণত হয় এবং নিজের স্রষ্টার জীবনের ওপর প্রতিশোধ নিতে শুরু করে।
পটভূমি ও রচনা ইতিহাস
সম্পাদনা১৮১৬ সালের গ্রীষ্মকালে মেরি শেলি, তার স্বামী পার্সি বিশি শেলি এবং লর্ড বায়রন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা হ্রদের ধারে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। একাদিক্রমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ঘরের মধ্যে সময় কাটানোর জন্য লর্ড বায়রন সবাইকে একটি করে ভূতের গল্প লেখার চ্যালেঞ্জ জানান। সেই প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই মেরি শেলি ফ্রাংকেনস্টাইনের মূল ভাবনাটি ডায়েরিতে লেখেন, যা পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের রূপ নেয়।
প্রধান চরিত্রসমূহ
সম্পাদনা- ভিক্টর ফ্রাংকেনস্টাইন: উপন্যাসের মূল চরিত্র ও বিজ্ঞানী, যিনি প্রাণ সৃষ্টি করেন।
- ফ্রাংকেনস্টাইনের সৃষ্টি: ভিক্টরের তৈরি সেই নামহীন লড়াকু ও প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ প্রাণী।
- ক্যাপ্টেন রবার্ট ওয়ালটন: একজন মেরু অভিযাত্রী, যার চিঠির মাধ্যমে পুরো কাহিনীটি পাঠক জানতে পারেন।
প্রভাব ও মূল্যায়ন
সম্পাদনাফ্রাংকেনস্টাইন কেবল একটি ভৌতিক গল্প নয়, বরং এটি মানুষের অনিয়ন্ত্রিত বৈজ্ঞানিক আকাঙ্ক্ষা এবং তার নৈতিক ফলাফলের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। পপ কালচারে এই উপন্যাসটির প্রভাব অপরিসীম। থিয়েটার, সিনেমা, কমিকসসহ সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যমে ফ্রাংকেনস্টাইনের চরিত্রটি বহুবার রূপায়িত হয়েছে। প্রায়শই ভুলবশত সেই সৃষ্ট দানবটিকে ফ্রাংকেনস্টাইন নামে ডাকা হয়, যদিও এটি আসলে মূল বিজ্ঞানীর নাম ছিল।
আরও দেখুন
সম্পাদনাসূত্র
সম্পাদনা
