প্রদোষে প্রাকৃতজন
প্রদোষে প্রাকৃতজন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত আলী রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি শওকত আলীর সবচেয়ে বিখ্যাত ও পাঠকপ্রিয় রচনা হিসেবে স্বীকৃত। মধ্যযুগীয় বাংলার সেন শাসনের শেষ পর্যায় এবং তুর্কি আক্রমণের প্রাক্কালে সমাজের নিম্নবর্গের মানুষদের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি রচিত। বাংলা উপন্যাসের ধারায় এটি একটি স্মরণীয় সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।
বিষয়বস্তু
সম্পাদনাসেন রাজার শাসন থেকে স্খলিত হয়ে যাচ্ছে দেশ, তুর্কি আক্রমণ আসন্ন। তবু সামন্ত-মহাসামন্তদের অত্যাচারের শেষ নেই। সেই অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় কখনো অন্ত্যজ মানুষেরা, কখনো বৌদ্ধেরা। ফলে শাসকদের রোষ এসে পড়ে তাদের উপরেই। উপন্যাসটিতে ইতিহাসের সেই প্রদোষকালের জটিল আবর্তে ঘূর্ণ্যমান কয়েকজন সাধারণ নরনারীর কাহিনি বিবৃত হয়েছে, যাদের নাম ইতিহাসে নেই, কিন্তু যারাই এই ভূখণ্ডের প্রকৃত উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। রাজা লক্ষ্মণ সেনের আমলে (আনুমানিক ১১৭৮–১২০৬ খ্রি.) শিল্প-সাহিত্যচর্চার জোয়ার এবং একই সাথে জাতপাত ও ধর্মীয় বৈষম্যের যে বাস্তবতা ছিল, শওকত আলী সেই প্রেক্ষাপটে ইতিহাসের অনালোকিত সাধারণ মানুষদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন।
প্রধান চরিত্রসমূহ
সম্পাদনা- শ্যামাঙ্গ: মৃৎশিল্পী, উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলির একটি। তার শিল্পসাধনায় ছেদ পড়ে এবং সে নিরুদ্দেশ যাত্রায় বের হয়।
- লীলাবতী: স্বামী পরিত্যক্তা নারী, যার আকাঙ্ক্ষা ও বেদনা উপন্যাসের মানবিক মাত্রাকে গভীর করে।
- মায়াবতী: সমাজের প্রান্তে বাস করা একটি চরিত্র, যার মধ্য দিয়ে নারীজীবনের যন্ত্রণার ছবি ফুটে ওঠে।
- বসন্তদাস: সাধারণ প্রাকৃতজনের প্রতিনিধি।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
সম্পাদনাশওকত আলী বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে এবং ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত হন।