তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য

তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের প্রথম কাব্য এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তর অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম সফল প্রয়োগ। ১৮৬০ সালের মে মাসে প্রকাশিত এই কাব্যটি পুরাণের সুন্দ-উপসুন্দ দৈত্যের ভ্রাতৃকাহিনিকে কেন্দ্র করে রচিত। পাঁচ সর্গে বিভক্ত এই কাব্যটি বাংলা কাব্যে পাশ্চাত্য মহাকাব্যধর্মের প্রবর্তন করে।

তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
নাম তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
প্রকাশনার স্থান কলকাতা
প্রকাশনার তারিখ ১৮৬০



বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় দৈত্য ভ্রাতৃকাহিনি, অমিত্রাক্ষর ছন্দ, পৌরাণিক কাব্য
পৃষ্ঠাসংখ্যা ৮২২

বিষয়বস্তু

সম্পাদনা

কাব্যে বর্ণিত হয়েছে দৈত্য রাজা বসুর পুত্র সুন্দ ও উপসুন্দের জন্ম থেকে তাদের পিতৃহত্যা, দেবতাদের পরাজয় এবং তিলোত্তমার সৌন্দর্যে ভ্রাতৃভেদের কাহিনি। ব্রহ্মার বরে অপরাজেয় হওয়া ভ্রাতৃদ্বয় দেবলোক জয় করে এবং তিলোত্তমাকে লাভের লোভে পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ধ্বংস হয়। ইন্দ্র পুনরায় স্বর্গপ্রাপ্ত হন।

সাহিত্যিক গুরুত্ব

সম্পাদনা

তিলোত্তমাসম্ভব বাংলা কাব্যে পয়ারের একঘেয়েমি ভেঙে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করে এবং মহাকাব্যের উপাদান (উৎসর্গ, দেবতার আবির্ভাব, যুদ্ধবর্ণন) যোগ করে। এটি মধুসূদনের পরবর্তী মেঘনাদবধ কাব্য-এর পথ প্রশস্ত করে। ভাষারীতি ও ছন্দের বিপ্লবের জন্য এটিকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মাইলফলক বলা হয়।

চরিত্রসমূহ

সম্পাদনা
  • সুন্দ ও উপসুন্দ – দৈত্য ভ্রাতৃদ্বয়, অপরাজেয় বীর কিন্তু তিলোত্তমার প্রতি লোভে ধ্বংস।
  • তিলোত্তমা – অপ্সরা, ভ্রাতৃভেদের কারণ।
  • বসু – দৈত্য রাজা, পুত্রদ্বয়ের জন্মদাতা।
  • ইন্দ্র – পরাজিত দেবরাজ, পুনরুদ্ধারকারী।

আরও দেখুন

সম্পাদনা

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা