ক্রাচের কর্নেল
ক্রাচের কর্নেল বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান রচিত একটি দর্শকনন্দিত ও বহুল আলোচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস। ২০০৯ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থে লেখক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কিংবদন্তি এবং বিতর্কিত চরিত্র কর্নেল আবু তাহেরের জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনকে এক নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন। এটি সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী একটি কাজ হিসেবে বিবেচিত।
বিষয়বস্তু
সম্পাদনাউপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে কর্নেল আবু তাহেরকে কেন্দ্র করে: যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের ময়দানে একটি পা হারানোর পর তার জীবনে 'ক্রাচ' একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। উপন্যাসে তার শৈশব, পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে জাসদের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা নিপুণভাবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং এর ফলে সৃষ্ট জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তার করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
সম্পাদনাক্রাচের কর্নেল প্রকাশের পর থেকেই পাঠক ও সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। এই উপন্যাসের জন্য শাহাদুজ্জামান ২০১০ সালে ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।
প্রধান চরিত্রসমূহ
সম্পাদনা- কর্নেল আবু তাহের: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ও আদর্শবাদী বিপ্লবী।
- লুৎফা তাহের: আবু তাহেরের সহধর্মিণী এবং তার জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী।
- জিয়াউর রহমান: সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- সিরাজুল আলম খান: জাসদ রাজনীতির নেপথ্য কারিগর।