অপরিচিতা

ARI (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ২৩:৪৭, ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ ("{{তথ্যছক বই | নাম=অপরিচিতা | লেখক=রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রকাশনার স্থান=ব্রিটিশ ভারত | ভাষা=বাংলা | বিষয়=সমাজ, বিবাহপ্রথা, নারীর আত্মমর্যাদা, মানবসম্পর্ক | প্রকাশক=ভারতী (প্রথম..." দিয়ে পাতা তৈরি)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

অপরিচিতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ছোটগল্প। ১৯১৪ সালে (১৩২১ বঙ্গাব্দ) প্রখ্যাত প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজ পত্র' পত্রিকার কার্তিক সংখ্যায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এটি রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত গল্প সংকলন 'গল্পগুচ্ছ'-এর তৃতীয় খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়। যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ এবং নারী চরিত্রের আত্মজাগরণের গল্প হিসেবে এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।

অপরিচিতা
নাম অপরিচিতা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক ভারতী (প্রথম প্রকাশ)
প্রকাশনার স্থান ব্রিটিশ ভারত
প্রকাশনার তারিখ ১৯১৬



বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় সমাজ, বিবাহপ্রথা, নারীর আত্মমর্যাদা, মানবসম্পর্ক
মিডিয়া ধরন মুদ্রিত

বিষয়বস্তু

সম্পাদনা

গল্পের কথক অনুপম নামের এক উচ্চশিক্ষিত কিন্তু ব্যক্তিত্বহীন যুবক, যে তার মামা ও মায়ের সিদ্ধান্তের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। অনুপমের বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক হয় কল্যাণী নামের এক রূপবতী ও গুণবতী মেয়ের সাথে। কিন্তু বিয়ের আসরে অনুপমের মামা কর্তৃক কল্যাণীর গহনা যাচাই করাকে কেন্দ্র করে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেন এবং নিজেই এই বিয়ে ভেঙে দেন।

এই ঘটনার পর কল্যাণী ভেঙে না পড়ে নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে এবং দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করে। পরবর্তীতে এক ট্রেন যাত্রায় অনুপম কল্যাণীকে নতুন রূপে আবিষ্কার করে। কল্যাণীর এই দৃঢ়চেতা, স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রূপ দেখে অনুপম নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং তার জীবনের বাকি সময় কল্যাণীর সান্নিধ্যে থেকে প্রায়শ্চিত্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

চরিত্রসমূহ

সম্পাদনা
  • অনুপম: গল্পের নায়ক ও কথক। উচ্চশিক্ষিত হলেও শুরুতে সে ছিল পরিবারের হাতের পুতুল, তবে গল্পের শেষে তার মধ্যে আত্মোপলব্ধি ঘটে।
  • কল্যাণী: গল্পের মূল নায়িকা। সে প্রথাগত বাঙালি মেয়ের গণ্ডি ভেঙে এক বলিষ্ঠ, প্রতিবাদী ও স্বাবলম্বী নারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
  • শম্ভুনাথ সেন: কল্যাণীর পিতা। তিনি একজন পেশাদার ডাক্তার এবং আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তিত্ব, যিনি লোভী ও অভদ্র পাত্রপক্ষের অন্যায় মেনে নেননি।
  • মামা: অনুপমের অভিভাবক, যার কাছে অর্থ ও আভিজাত্যই ছিল শেষ কথা।

গল্পটি প্রথম পুরুষে বর্ণিত। অনুপমের আত্মসমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ঘটনাগুলি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়েছে। সহজ ভাষা, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ গল্পটিকে বাংলা ছোটগল্পের অন্যতম সেরা রচনায় পরিণত করেছে।

প্রভাব ও মূল্যায়ন

সম্পাদনা

অপরিচিতা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কালজয়ী ছোটগল্প হিসেবে স্বীকৃত। নারীর মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথের প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির উজ্জ্বল প্রকাশ এই গল্পে দেখা যায়। এটি বাংলা সাহিত্য পাঠ্যক্রমেও দীর্ঘদিন ধরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে নাটক ও চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে।

আরও দেখুন

সম্পাদনা