পুতুল নাচের ইতিকথা

ARI (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১০:৫০, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Encyclopedist (আলাপ)-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে ARI-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

পুতুলনাচের ইতিকথা হলো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি কালজয়ী উপন্যাস। ১৯৩৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত এই উপন্যাসটি বাংলা কথাসাহিত্যে রিয়ালিজম বা বাস্তবতাবাদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মানুষের জীবনের ওপর নিয়তি ও সমাজব্যবস্থার অদৃশ্য সুতোর টান এবং তার ফলে সৃষ্ট পুতুলের মতো অসহায়ত্বই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।

পুতুলনাচের ইতিকথা
নাম পুতুলনাচের ইতিকথা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক জোনাকী প্রকাশনী
প্রকাশনার স্থান বাংলাদেশ
প্রকাশনার তারিখ ২০১৪
আইএসবিএন 9789849040804


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় সমাজব্যবস্থা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, নিয়তি, মানব-মনস্তত্ত্ব
মিডিয়া ধরন মুদ্রিত
পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৯০

বিষয়বস্তু

সম্পাদনা

উপন্যাসের পটভূমি গ্রামীণ জীবন হলেও এর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত আধুনিক। কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শশী, যে কলকাতা থেকে ডাক্তারি পাস করে গ্রামে ফিরে আসা এক শিক্ষিত যুবক। তার চিন্তাধারায় আধুনিকতা ও যুক্তিবাদ থাকলেও গ্রামের রক্ষণশীলতা ও সংস্কারের সঙ্গে তার নিরন্তর দ্বন্দ্ব চলে।

অন্যদিকে রয়েছে কুসুম (নারী চরিত্র) ও কুমুদ। কুসুম এক রহস্যময়ী ও স্বাধীনচেতা নারী, যে শশীকে ভালোবাসলেও সামাজিক বাস্তবতার চাপে সেই সম্পর্ক পূর্ণতা পায় না। উপন্যাসে চরিত্রগুলো যেন এক অদৃশ্য সুতোর টানে চালিত হচ্ছে। শশী গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাইলেও বারবার নানা বন্ধনে আটকে পড়ে।

বইটির নামকরণের মধ্যেই এর মূল দর্শন নিহিত রয়েছে। লেখক মানুষকে 'পুতুল' হিসেবে কল্পনা করেছেন, যারা নিজেদের ইচ্ছায় নয়, বরং প্রকৃতি, প্রবৃত্তি এবং লৌকিক-অলৌকিক নানা শক্তির (নিয়তির) অদৃশ্য ইশারায় নেচে চলেছে।

মূল উপজীব্য

সম্পাদনা

উপন্যাসটি নিছক কোনো প্রেমকাহিনি নয়, বরং এটি একটি গভীর জীবনদর্শন ও সমাজতাত্ত্বিক দলিল। এর প্রধান দিকগুলো হলো:

  • সমাজব্যবস্থার কঠোরতা: গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার ও রক্ষণশীল কাঠামোর মধ্যে ব্যক্তির শ্বাসরূদ্ধকর অবস্থা।
  • ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম সামাজিক দায়িত্ব: শশীর মতো আধুনিক মানুষেরা কীভাবে নিজের স্বপ্ন ও স্বাধীনতার সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতার সংঘাতে পিষ্ট হয়।
  • নিয়তির হাতে মানুষের অসহায়তা: মানুষের জীবন তার নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না; পরিস্থিতির অমোঘ টানে সে চালিত হয়।
  • সম্পর্কের জটিলতা ও মানসিক দ্বন্দ্ব: নারী-পুরুষের সম্পর্কের অবদমিত বাসনা এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের নিপুণ চিত্রণ।

প্রকাশনা ইতিহাস

সম্পাদনা

পুতুলনাচের ইতিকথা প্রথমে ভারতবর্ষ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৩৬ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে এর অসংখ্য সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, জোনাকী প্রকাশনী থেকে ২০১৪ সালে এর একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

মূল্যায়ন

সম্পাদনা

সমালোচকদের মতে, পদ্মা নদীর মাঝি-র পরেই এটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। এই উপন্যাসে তিনি ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্ব এবং মার্কসীয় জীবনদর্শন—উভয়েরই সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। এটি আধুনিক বাংলা উপন্যাসের ধারায় একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত।

আরও দেখুন

সম্পাদনা

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা