হাঁসুলি বাঁকের উপকথা

ARI (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১০:২৭, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Encyclopedist (আলাপ)-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে ARI-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি প্রখ্যাত আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি ধ্রুপদী সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৪৬ সালে (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ) শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে এটি গ্রন্থাকারে আত্মপ্রকাশ করে। উপন্যাসে বীরভূম অঞ্চলের কোপাই নদীর তীরে বসবাসকারী কাহার সম্প্রদায়ের জীবনধারা এবং বদলে যাওয়া সময়ের আখ্যান অত্যন্ত নিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে।

হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
নাম হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক বেঙ্গল পাবলিশার্স (প্রথম সংস্করণ); করুণা পাবলিশার (পরবর্তী সংস্করণ)
প্রকাশনার স্থান ভারত
প্রকাশনার তারিখ ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ
আইএসবিএন 978-8184374018


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় গ্রামীণ সমাজ, লোকসংস্কৃতি, আধুনিকতার আগমন, অন্ত্যজ জীবন, কৃষিভিত্তিক সমাজ
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার

বিষয়বস্তু

সম্পাদনা

উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দু হলো কোপাই নদীর তীরে বাঁশবাঁদি গ্রাম, যেখানে নদীটি হাঁসুলী গহনার মতো একটি বাঁক নিয়েছে। এই গ্রামের অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষ 'কাহার' সম্প্রদায়ের বিচিত্র জীবনযাত্রা, তাদের লৌকিক বিশ্বাস, অলৌকিক জগৎ, সংস্কার, পূজা-পার্বণ এবং শিকার-উৎসবের মধ্য দিয়ে এক আদিম ও অকৃত্রিম সংস্কৃতি ফুটে উঠেছে।

গল্পের মূল সংঘাত তৈরি হয় প্রাচীন কৃষি-ব্যবস্থা নির্ভর জীবন এবং আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার আগমনের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রেক্ষাপটে রেললাইন সম্প্রসারণ এবং আধুনিক জীবনবোধ কীভাবে কাহারদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে, লেখক তা তন্নিষ্ঠ বাস্তবতায় তুলে ধরেছেন। এতে করালী ও বনওয়ারী—এই দুই চরিত্রের মাধ্যমে প্রাচীন প্রথা ও আধুনিক বিদ্রোহের দ্বন্দ্বটি মূর্ত হয়ে উঠেছে।

প্রকাশনা ইতিহাস

সম্পাদনা

উপন্যাসটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তারাশঙ্কর তার আমার সাহিত্যজীবন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নিজে এই মানুষের সাথে মিশেছেন এবং তাদের কাছ থেকে গল্প শুনেছেন। ১৩৫৩ বঙ্গাব্দের শারদীয়া আনন্দবাজারে এটি প্রকাশের কথা থাকলেও সে বছর দাঙ্গার কারণে পত্রিকাটি ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়। এরপর ১৩৫৪ সনে 'বেঙ্গল পাবলিশার্স' থেকে এটি প্রথম বই হিসেবে বের হয়। গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন কবিশেখর কালিদাস রায়কে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র

সম্পাদনা
  • বনওয়ারী: কাহারদের প্রধান বা 'মড়ল', যিনি প্রাচীন ঐতিহ্য ও প্রথার কট্টর অনুসারী।
  • করালী: আধুনিকতা ও বিদ্রোহী মানসিকতার প্রতীক, যে প্রাচীন সংস্কারকে ভাঙতে চায়।
  • সুচাঁদ: প্রবীণ চরিত্র, যার স্মৃতি ও গল্পের মাধ্যমে হাঁসুলী বাঁকের আদি ইতিহাস ও উপকথাগুলো বর্ণিত হয়েছে।
  • পাখি: করালীর প্রেমিকা ও পরবর্তীতে স্ত্রী।

আরও দেখুন

সম্পাদনা

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা