মিত্তির বাড়ি
মিত্তির বাড়ি হল প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত একটি বিখ্যাত সামাজিক উপন্যাস। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি আশাপূর্ণা দেবীর সাহিত্য জীবনের শুরুর দিকের অন্যতম শক্তিশালী রচনা। এই উপন্যাসে তিনি তৎকালীন উত্তর কলকাতার একান্নবর্তী বা যৌথ পরিবারের ভাঙন এবং সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের চিত্র নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]মিত্তির বাড়ি উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে উত্তর কলকাতার একটি বনেদি একান্নবর্তী পরিবারকে কেন্দ্র করে। বিশাল এই 'মিত্তির' পরিবারের অন্দরমহলে প্রতিদিনের তুচ্ছ ঘটনা, খাওয়া-দাওয়া, মান-অভিমান এবং পারস্পরিক সম্পর্কের জটিলতা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে ১৯৪৬-৪৭ সালের উত্তাল সময়—দাঙ্গা, দেশভাগ এবং ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থা। বাইরের জগতের এই অস্থিরতা কীভাবে একটি রক্ষণশীল যৌথ পরিবারের ভিত নাড়িয়ে দেয় এবং পরিবারের সদস্যদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনে, তা লেখিকা অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে, বাড়ির বউদের (যেমন—উমাশশী, সুরেখা) মনস্তত্ত্ব এবং তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিধিনিষেধের সঙ্গে আধুনিকতার সংঘাত এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান দিক।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসটিতে বহু চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে, যা একটি যৌথ পরিবারের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র হলো:
- উমাশশী: বিধবা চরিত্র, যার মাধ্যমে তৎকালীন বিধবাদের বঞ্চনা ও কঠোর রীতিনীতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
- সুরেখা: আধুনিকমনস্কা নারী চরিত্র, যে পরিবারের রক্ষণশীলতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হয়।
- শুদ্ধ: পরিবারের একজন সদস্য যে সংকটের সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে দৃঢ়তার পরিচয় দেয়।
অভিযোজন
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]এই জনপ্রিয় উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে পরবর্তীকালে একাধিকবার নাটক ও অডিও স্টোরি নির্মিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলা টেলিভিশনে (জি বাংলা) 'মিত্তির বাড়ি' নামে একটি ধারাবাহিক নাটকও প্রচারিত হয়েছে, যা এই উপন্যাসের মূল ভাব দ্বারা অনুপ্রাণিত।