নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে
নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে বাঙালি কথাসাহিত্যিক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের দেশভাগ নিয়ে লেখা বাংলা উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম সেরা রচনা হিসেবে বিবেচিত। ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রচিত এই উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতার করুণা প্রকাশনী থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। দেশভাগজনিত বহু সমস্যার মানবিক দলিল হিসেবে উপন্যাসটি বাংলা ও ভারতীয় সাহিত্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। ভারতের ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের উদ্যোগে উপন্যাসটি বারোটি মূল ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]উপন্যাসের পটভূমি পূর্ববাংলার (অধুনা বাংলাদেশ) ঢাকা জেলার এক গ্রামীণ জনপদ। দেশভাগের ঠিক আগেকার সেই গ্রামীণ জীবনে হিন্দু-মুসলমান প্রতিবেশীরা শতাব্দীর বন্ধনে একই মাটিতে বেঁচে আছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মণীন্দ্রনাথ— যিনি হারানো জন্মভূমির স্মৃতি ও স্বপ্নের মধ্যে বাঁচেন এবং সারাজীবন সেই অধরা 'নীলকণ্ঠ পাখি' খুঁজে চলেন। দেশভাগের পর উদ্বাস্তু হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসা মানুষগুলোর শিকড়-উৎপাটনের যন্ত্রণা, পুরনো ভিটেমাটির টান এবং নতুন দেশে টিকে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল সুর।
ধারাবাহিকতা
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]এই উপন্যাসটি অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার-পর্বের দেশভাগ সিরিজের প্রথম পর্ব। পরবর্তী তিনটি পর্ব হলো:
- দ্বিতীয় পর্ব: মানুষের ঘরবাড়ি
- তৃতীয় পর্ব: অলৌকিক জলযান
- চতুর্থ পর্ব: ঈশ্বরের বাগান
প্রধান চরিত্রসমূহ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- মণীন্দ্রনাথ: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, দেশভাগে ছিন্নমূল হওয়া এক বাঙালি হিন্দু।
- ঈশম শেখ: গ্রামের একজন মুসলমান কৃষক, মানবিক সম্পর্কের প্রতীক।
- জোটন বিবি: দরিদ্র মুসলমান নারী।
- ফেলু শেখ: গ্রামের প্রভাবশালী চরিত্র।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- শরৎ পুরস্কার (২০০৫)
- আই.আই.পি.এম প্রবর্তিত সুরমা চৌধুরী আন্তর্জাতিক স্মৃতি পুরস্কার (২০০৮), সাম্মানিক মূল্য দশ লক্ষ টাকা
- ভারতের ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট কর্তৃক ক্লাসিক মর্যাদা প্রদান এবং বারোটি ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ প্রকাশ
সমালোচকদের মন্তব্য
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]সাহিত্যিক বিমল কর লিখেছেন এটি অতীনের সেরা লেখা এবং একটি 'ভর পাওয়া লেখা'। সমরেশ মজুমদার ও শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় উভয়ই উপন্যাসটিকে সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে অভিহিত করেছেন। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এটিকে দুই বাংলার সাহিত্যিক ঐতিহ্যের ঐক্যের দলিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।