বিষয়বস্তুতে চলুন

আরোগ্য নিকেতন

বইপিডিয়া থেকে
আরোগ্য নিকেতন
নাম আরোগ্য নিকেতন
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক মিত্র ও ঘোষ
প্রকাশনার স্থান ভারত
প্রকাশনার তারিখ ১৯৫৩ (প্রথম প্রকাশ)
আইএসবিএন 978-9350202845


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় চিকিৎসাবিদ্যা, জীবন-মৃত্যুর দর্শন, আধুনিকতা বনাম ঐতিহ্য
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার

আরোগ্য নিকেতন বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি ধ্রুপদী উপন্যাস। ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। এই গ্রন্থের জন্য লেখক ১৯৫৫ সালে 'রবীন্দ্র পুরস্কার' এবং ১৯৫৬ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান 'সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার' লাভ করেন। জীবন ও মৃত্যুর রহস্য, চিকিৎসাবিদ্যার বিবর্তন এবং মানুষের নৈতিক বোধের এক গভীর আখ্যান এই উপন্যাসটি।

উপন্যাসটির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নবগ্রামের বৃদ্ধ চিকিৎসক 'জীবন মশায়'। তিনি বংশপরম্পরায় কবিরাজি চিকিৎসার ধারক, তবে নাড়ি দেখে রোগ নির্ণয় ও মৃত্যু মুহূর্ত গণনা করার এক অলৌকিক ও বিস্ময়কর ক্ষমতার অধিকারী। জীবন মশায় কেবল একজন চিকিৎসক নন, বরং তিনি জীবনের এক দার্শনিক পাঠক।

উপন্যাসের মূল সংঘাত আবর্তিত হয়েছে প্রাচীন নাড়িবিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ বনাম আধুনিক অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে। নবগ্রামে তরুণ ডাক্তার প্রদ্যোতের আগমনের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞানের নতুন ও পুরাতন ধারার যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, লেখক তাকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে চিত্রিত করেছেন। তবে এটি কেবল চিকিৎসার লড়াই নয়, বরং সময়ের পরিবর্তনের সাথে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার এক দীর্ঘ লড়াই।

  • জীবন মশায়: উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। এক বিয়োগান্তক প্রেম এবং পারিবারিক ইতিহাসের ভার বহন করেও তিনি মানুষের সেবা ও জীবন দর্শনে অবিচল।
  • প্রদ্যোত: আধুনিক অ্যালোপ্যাথি ডাক্তার, যিনি বিজ্ঞানের যুক্তিবাদ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতিনিধি।
  • মঞ্জরী: জীবন মশায়ের প্রথম জীবনের প্রেমিকা, যার স্মৃতি তাঁর জীবনের এক বিরাট অংশ জুড়ে বিদ্যমান।
  • শশিমুখী: জীবন মশায়ের স্ত্রী।

পুরস্কার ও সম্মাননা

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
  • রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৫৫)
  • সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৬)