হিউম্যান বিয়িং
হিউম্যান বিয়িং লেখক ইফতেখার সিফাত এবং ডা. শামসুল আরেফীন (সম্পাদক)-এর লেখা একটি উল্লেখযোগ্য বই। বইটি প্রকাশ করেছে সিজদাহ পাবলিকেশন। ১৭৬ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটি পশ্চিমা সভ্যতা, দর্শন এবং মূল্যবোধের সাথে ইসলামি বিশ্বাস ও জীবনধারার বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাত নিয়ে আলোচনা করে। বিশেষত, স্বাধীনতা, সমতা ও অধিকারের মতো পশ্চিমা ধারণাগুলো কীভাবে মুসলিম সমাজের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করছে এবং ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে তার বৈপরীত্য সৃষ্টি করছে, তা এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
পটভূমি ও বিষয়বস্তু
বইটির মূল প্রতিপাদ্য হলো বর্তমান আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব এবং এর ফলে মুসলিম সমাজে সৃষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শিক সংকট। লেখক সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর একটি উক্তিকে ভিত্তি করে আলোচনার সূত্রপাত করেন, যেখানে নদভী আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতাকে 'নতুন ইরতিদাদ' বা ইসলাম ত্যাগের দর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই 'নতুন ইরতিদাদ' সরাসরি আল্লাহকে অস্বীকার করার বা বাহ্যিক বেশভূষা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পায় না, বরং তা মুসলিমদের চিন্তা ও চেতনার গভীরে প্রভাব ফেলে, যা পরোক্ষভাবে ইসলামি বিশ্বাস থেকে দূরে সরিয়ে দেয় বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
'হিউম্যান বিয়িং' বইটিতে বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে যে, একজন মুসলিম প্রকাশ্যে আল্লাহ কর্তৃক হারাম ঘোষিত কোনো বিষয়কে হারাম মনে না করা বা হালাল ঘোষিত কোনো বিষয়কে হালাল মনে না করাকে দুষ্কর মনে করলেও, পশ্চিমা দর্শন ও মূল্যবোধের প্রভাবে এই ধরনের চিন্তাভাবনার মূলভাবটি অজান্তেই প্রকাশ করে ফেলছে। বিশেষত, স্বাধীনতা, সমতা এবং অধিকারের পশ্চিমা মানদণ্ড যখন আল্লাহর নির্ধারিত হালাল-হারামের ওপর প্রাধান্য পায়, তখন মুসলিমরা নিজেদের ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলছে বলে লেখক মনে করেন। বইটি যুক্তি দেয় যে, এটিই বর্তমানে মুসলিমদের মধ্যে ইরতিদাদের সবচেয়ে বড় কারণ।
লেখক ইফতেখার সিফাত এই গ্রন্থে মুসলিম প্রজন্মের কাছে পশ্চিমা দর্শনের এই সূক্ষ্ম প্রভাবকে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। তিনি তুলে ধরেছেন কীভাবে মুসলিম সন্তানরা না বুঝেই পশ্চিমা চিন্তাধারার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। বইটির উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমা সভ্যতার অসার চিন্তাগুলোর ভ্রান্তি উন্মোচন করা এবং ইসলামি বিশ্বাস ও সভ্যতার সাথে তার সংঘাতকে সুস্পষ্ট করে তোলা। লেখক তার লেখার মাধ্যমে সমসাময়িক মুসলিমদের মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে একটি শরিয়াহভিত্তিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার লেখার বৈশিষ্ট্য হলো জটিল ও শাস্ত্রীয় বিষয়কে সহজ, সাবলীল ও জনমানুষের ভাষায় উপস্থাপন করা, যা কুরআন, হাদিস এবং সালাফদের ফাহম (বুঝ) দ্বারা সমৃদ্ধ।