বিষয়বস্তুতে চলুন

স্বপ্নের ঝাঁপি

বইপিডিয়া থেকে
ARI (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১৩:৪৮, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ ("{{তথ্যছক বই | নাম = স্বপ্নের ঝাঁপি | লেখক = আশাপূর্ণা দেবী | প্রকাশনার স্থান = কলকাতা | ভাষা = বাংলা | বিষয় = সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক, রহস্য | প্রকাশক = কসমো | প্রকাশনার তারিখ = ১৯৬১ | ম..." দিয়ে পাতা তৈরি)
স্বপ্নের ঝাঁপি
নাম স্বপ্নের ঝাঁপি
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক আশাপূর্ণা দেবী


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক কসমো
প্রকাশনার স্থান কলকাতা
প্রকাশনার তারিখ ১৯৬১



বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক, রহস্য
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার

স্বপ্নের ঝাঁপি হল প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত একটি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। ১৯৬২ সালের জানুয়ারি মাসে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে লেখিকা সমাজের প্রান্তিক মানুষ, মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন এবং মানবিক সম্পর্কের এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান তুলে ধরেছেন। গল্পের শুরু হয় এক রহস্যময় ভিক্ষুকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে, যার মৃত্যুর পর তার সঙ্গের পুটলি থেকে বেরিয়ে আসে এক অদ্ভুত খাতা, যা কাহিনীর মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বিষয়বস্তু

উপন্যাসের সূচনা হয় বাজারের মুখে এক অজ্ঞাতপরিচয় ভিখারির লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে। লোকটিকে আপাতদৃষ্টিতে ভিখারি মনে হলেও তার আচার-আচরণ এবং মৃত্যুর পর তার পুটলি থেকে উদ্ধার হওয়া নতুন জামাকাপড়, প্রসাধন সামগ্রী এবং সাঙ্কেতিক ভাষায় লেখা একটি খাতা তাকে রহস্যময় করে তোলে। খাতাটিতে কাল্পনিক লটারিতে জেতা টাকার অদ্ভুত সব হিসেব লেখা ছিল, যা তার 'স্বপ্নের ঝাঁপি'র প্রতীক।

কাহিনীর সমান্তরালভাবে উঠে আসে প্রভাত গোস্বামী নামের এক মধ্যবিত্ত যুবকের গল্প। বদলি সূত্রে পাঞ্জাব সীমান্তে গিয়ে সে এন. কে. চ্যাটার্জি পরিচালিত 'আরাম কুঞ্জ' হোটেলে ওঠে। সেখানে প্রভাতের পরিচয় হয় চ্যাটার্জির সুন্দরী ভাগ্নী মল্লিকার সঙ্গে। চ্যাটার্জির সন্দেহজনক ব্যবসা এবং মল্লিকার অসহায় অবস্থা প্রভাতকে বিচলিত করে। মল্লিকার প্রতি সহানুভূতি এবং ভালোবাসায় প্রভাত তাকে সেই নরক থেকে উদ্ধার করে কলকাতায় নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে এবং বিয়ে করে।

কিন্তু গল্পের ট্র্যাজেডি শুরু হয় কলকাতায় ফিরে আসার পর। মল্লিকা প্রভাতের সংসারে খাপ খাইয়ে নিলেও তার অতীত তাকে তাড়া করে। শেষ পর্যন্ত এক সন্ধ্যায় সিনেমা দেখে ফেরার পথে মল্লিকা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। প্রভাতের মনে প্রশ্ন জাগে, মল্লিকা কি অপহৃত হয়েছে, নাকি স্বেচ্ছায় তার পুরোনো জীবনে ফিরে গেছে?

প্রধান চরিত্র

  • প্রভাত গোস্বামী: উপন্যাসের নায়ক। একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত যুবক, যে মানবিকতা এবং ভালোবাসার টানে মল্লিকাকে উদ্ধার করে বিয়ে করে।
  • মল্লিকা: উপন্যাসের নায়িকা। সুন্দরী এবং রহস্যময়ী। মামার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সে প্রভাতের আশ্রয়ে আসে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি হয় রহস্যঘেরা।
  • এন. কে. চ্যাটার্জি (নন্দকুমার চাটুজ্যে): মল্লিকার মামা এবং 'আরাম কুঞ্জ' হোটেলের মালিক। একজন ধূর্ত এবং সুবিধাবাদী চরিত্র, যে নিজের স্বার্থে ভাগ্নীকে ব্যবহার করে।
  • দীনবন্ধু পাল: বাজারের এক হোটেল মালিক, যে অজ্ঞাতপরিচয় ভিখারিটির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল।
  • করুণাময়ী: প্রভাতের মা। তিনি প্রথমে মল্লিকাকে মেনে নিতে দ্বিধা করলেও পরে তাকে পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করেন।

বিশেষ উদ্ধৃতি

  • "স্বপ্নকে কি পুটুলিতে পোরা যায়? যায়, দীনবন্ধুদা যায়। যেদিন স্বপ্নটা সত্যি হয়ে যাবে, তোমাকেই আগে দেখাব।" - অজ্ঞাতপরিচয় ভিখারি
  • "মানুষ কি এতই সস্তা জিনিস যে, সামান্য খুঁত হলেই তাকে বর্জন করতে হবে?" - প্রভাত

আরও দেখুন

সূত্র

বহিঃসংযোগ