বিষয়বস্তুতে চলুন

মৃত্যুর থাবা

বইপিডিয়া থেকে
মৃত্যুর থাবা
নাম মৃত্যুর থাবা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক অভীক দত্ত


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক বুক ফার্ম
প্রকাশনার স্থান ভারত
প্রকাশনার তারিখ ২০২৫
আইএসবিএন 9789348544414


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় মৃত্যু, অস্তিত্ববাদ, মনস্তত্ত্ব, প্রযুক্তি-নির্ভরতা, মানবিক সম্পর্ক
মিডিয়া ধরন হার্ডকভার
পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৪৮

মৃত্যুর থাবা হলো কথাসাহিত্যিক অভীক দত্ত রচিত একটি সাম্প্রতিক উপন্যাস। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এই বইটিতে আধুনিক জীবনের প্রযুক্তিনির্ভরতা এবং তার আড়ালে থাকা গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটকে উপজীব্য করা হয়েছে। লেখক এখানে স্মার্টফোন আসক্তির মতো সামাজিক ব্যাধির সঙ্গে মৃত্যু ও অস্তিত্ববাদের মতো গভীর দার্শনিক ভাবনাকে একসূত্রে গেঁথেছেন।

পটভূমি ও কাহিনিসংক্ষেপ

বর্তমান সময়ে মানুষ স্মার্টফোনের ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল। যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং, ম্যাপ দেখা কিংবা বিনোদন, সবকিছুর জন্যই আমরা এখন হাতের মুঠোয় থাকা যন্ত্রটির দিকে তাকিয়ে থাকি। এই প্রবল প্রযুক্তিনির্ভরতাই গল্পের প্রেক্ষাপট।

কাহিনির শুরু হয় একটি অদ্ভুত বাজি বা পরীক্ষার মাধ্যমে। প্রশ্ন ওঠে যে যদি মোটা টাকার বিনিময়ে কাউকে তার সাধের স্মার্টফোনটি ত্যাগ করতে বলা হয়, তবে কী হবে? মানুষ কি পারবে প্রযুক্তির এই প্রবল আকর্ষণ কাটিয়ে উঠতে? এই আপাত সাধারণ ঘটনা থেকেই গল্পের মোড় ঘুরে যায়। চরিত্ররা স্মার্টফোন ছাড়া থাকতে গিয়ে যে মানসিক অস্থিরতা ও সংকটের মুখোমুখি হয়, তা তাদের জীবনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় ডেকে আনে।

মূল বিষয়বস্তু ও দর্শন

গল্পের আবহে স্মার্টফোন ও প্রযুক্তির কথা থাকলেও এর গভীরে রয়েছে জীবন ও মৃত্যুর শাশ্বত দ্বন্দ। উপন্যাসের প্রধান দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  • জীবন ও মৃত্যুর সম্পর্ক: এখানে মৃত্যু কেবল শারীরিক সমাপ্তি হিসেবে আসেনি। যান্ত্রিকতার গ্রাসে মানবিক সত্তার হারিয়ে যাওয়াকেও এক ধরণের মৃত্যু হিসেবে দেখানো হয়েছে। চরিত্ররা যখন তাদের যান্ত্রিক অবলম্বন হারায়, তখন তারা জীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়।
  • মনস্তাত্ত্বিক সংকট: ফোন ছাড়া থাকতে গিয়ে চরিত্রদের ভেতরের অবদমিত ভয় ও মানসিক অস্থিরতা বেরিয়ে আসে। লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে প্রযুক্তি আমাদের মন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা না থাকলে মানুষ কতটা অসহায় বোধ করে।
  • অস্তিত্বের প্রশ্ন: নিজের অস্তিত্ব ও পরিচিতি নিয়ে চরিত্ররা নানা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। তাদের এই সংগ্রাম ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষমতা পাঠককে এক অস্তিত্ববাদী সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

মূল্যায়ন

মৃত্যুর থাবা একটি চিন্তাশীল ও মানবিক উপন্যাস, যা পাঠককে জীবনের অস্থিরতা, মৃত্যুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং সেই অস্থিরতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি কেবল মৃত্যুচিন্তার উপন্যাস নয়; বরং জীবনের মূল্য ও উদ্দেশ্য উপলব্ধির এক গভীর সাহিত্যিক যাত্রা।

প্রকাশনা তথ্য

বইটি ২০২৫ সালে বুক ফার্ম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। ১৪৮ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটি হার্ডকভার বাঁধাইয়ে বাজারে উপলব্ধ। বইটির ওজন ৫০০ গ্রাম এবং এর আয়তন ২১ x ১৪ x ২ সেমি।

আরও দেখুন

বহিঃসংযোগ