বিষয়বস্তুতে চলুন
🎉 বইপিডিয়ার ১ বছর পূর্তি! · আমাদের ফেসবুক পেজ অনুসরণ করুন.

সাম্যবাদী: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বইপিডিয়া থেকে
সম্পাদনা সারাংশ নেই
৪১ নং লাইন: ৪১ নং লাইন:
বইটিতে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
বইটিতে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।


==মূলভাব==
== মূলভাব ==
কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কবির বিশ্বাস মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে পরিচিত হয়ে ওঠা সবচেয়ে সম্মানের। নজরুলের আদর্শ আজও প্রতিটি মানুষের জীবনপথের প্রেরণা। কিন্তু মানুষ সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে রাজনীতি করে, দুর্বলকে শােষণ করে, এখনও একের বিরুদ্ধে অন্যকে উস্কে দেয়। এক জনের প্রতি অন্য জনকে বিমুখ করার ষড়যন্ত্র করে।
কবিতাটিতে [[কাজী নজরুল ইসলাম]] বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াই সবচেয়ে বড় সম্মান। নজরুলের এই আদর্শ আজও মানুষের জীবনপথে প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তবে দুঃখজনকভাবে মানুষ এখনও সম্প্রদায়ের নামে রাজনীতি করে, দুর্বলকে শোষণ করে এবং এককে অন্যের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়।
নজরুল এ কবিতায় বলেছেন- “মানুষেরই মাঝে স্বৰ্গনরক মানুষেতে সুরাসুর।” নজরুল জোর দেন অন্তর ধর্মের ওপর। ধর্মগ্রন্থ পড়ে অর্জিত জ্ঞান যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে প্রয়ােজন মানবিকতাবােধ। কবি বলেছেন মানুষের হৃদয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন মন্দির কাবা নেই। কবি সকল মত, সকল পথের উপরে স্থান দিয়েছেন মানবিকতা। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলিম সকলকে একই মায়ের সন্তানের মতাে ভেবেছেন। নজরুল মানবিক মেলবন্ধনের জন্য সংগীত রচনা করেছেন। বাণী ও সুরের মাধ্যমে মানবতার সুবাস ছড়ানাের চেষ্টা করেছেন।
 
কবিতায় নজরুল বলেন, ''"মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতেই সুরাসুর।"'' তিনি ধর্মের বাইরের চেয়ে অন্তরের ধর্মকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ধর্মগ্রন্থ পড়ে জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, সেটিকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে প্রয়োজন মানবিকতা। কবির মতে, মানুষের হৃদয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মন্দির বা কাবা নেই। তিনি সকল মত পথের ঊর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দিয়েছেন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবকেই তিনি একই মায়ের সন্তান বলে মনে করেছেন।
 
নজরুল মানবিক মেলবন্ধনের জন্য সংগীত রচনা করেছেন এবং বাণী ও সুরের মাধ্যমে মানবতার সুবাস ছড়াতে চেয়েছেন। ‘[[সাম্যবাদী (কবিতা)|সাম্যবাদী]]’ কবিতায় তিনি বলেছেন, মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা তীর্থক্ষেত্রের মতোই পবিত্র হচ্ছে মানুষের হৃদয়। যদি হৃদয়ে হিংসা ও বিদ্বেষ না থাকে, সকলের প্রতি সমদর্শিতা থাকে, তাহলে পৃথিবী হয়ে উঠতে পারে সুখের আবাসস্থল।
 
সাম্যবাদের মূল দর্শন হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার থাকা। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কবিতার মাধ্যমে এই সাম্যের বাণীই প্রচার করেছেন এবং সমাজে সকল শ্রেণির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পেয়েছেন।


নজরুল ‘সাম্যবাদী’ কবিতায় মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্যান্য তীর্থক্ষেত্রের মতাে পবিত্র মনে করেছেন মানুষের হৃদয়কে। এ হৃদয় যদি পবিত্র থাকে, হৃদয়ে যদি কারাে প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ না থাকে, সকলের প্রতি সমদর্শিতা থাকে তাহলে পৃথিবী হবে সুখের আবাসস্থল। সাম্যবাদ মানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নিৰ্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার থাকা উচিত এ মতবাদ। কাজী নজরুল ইসলাম তার সাম্যবাদী’ কবিতায় সব ধরনের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাম্যবাদের বাণী প্রচার করেছেন।
== তথ্যসূত্র ==
== তথ্যসূত্র ==
{{সূত্র তালিকা}}
{{সূত্র তালিকা}}

১৬:৫৯, ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ

সাম্যবাদী
নাম সাম্যবাদী
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক কাজী নজরুল ইসলাম


প্রকাশনা তথ্য


আইএসবিএন 978-98404-12860


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা বাংলা
বিষয় সাম্যবাদ


সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। বইটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে (পৌষ,১৩৩২) প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোয় বেশিরভাগই মানবিক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। [][]

কবিতাসমূহ

বইটিতে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

মূলভাব

কবিতাটিতে কাজী নজরুল ইসলাম বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াই সবচেয়ে বড় সম্মান। নজরুলের এই আদর্শ আজও মানুষের জীবনপথে প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তবে দুঃখজনকভাবে মানুষ এখনও সম্প্রদায়ের নামে রাজনীতি করে, দুর্বলকে শোষণ করে এবং এককে অন্যের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়।

কবিতায় নজরুল বলেন, "মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতেই সুরাসুর।" তিনি ধর্মের বাইরের চেয়ে অন্তরের ধর্মকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ধর্মগ্রন্থ পড়ে জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, সেটিকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে প্রয়োজন মানবিকতা। কবির মতে, মানুষের হৃদয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মন্দির বা কাবা নেই। তিনি সকল মত ও পথের ঊর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দিয়েছেন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবকেই তিনি একই মায়ের সন্তান বলে মনে করেছেন।

নজরুল মানবিক মেলবন্ধনের জন্য সংগীত রচনা করেছেন এবং বাণী ও সুরের মাধ্যমে মানবতার সুবাস ছড়াতে চেয়েছেন। ‘সাম্যবাদী’ কবিতায় তিনি বলেছেন, মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা তীর্থক্ষেত্রের মতোই পবিত্র হচ্ছে মানুষের হৃদয়। যদি হৃদয়ে হিংসা ও বিদ্বেষ না থাকে, সকলের প্রতি সমদর্শিতা থাকে, তাহলে পৃথিবী হয়ে উঠতে পারে সুখের আবাসস্থল।

সাম্যবাদের মূল দর্শন হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার থাকা। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কবিতার মাধ্যমে এই সাম্যের বাণীই প্রচার করেছেন এবং সমাজে সকল শ্রেণির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পেয়েছেন।

তথ্যসূত্র

  1. লুয়া ত্রুটি package.lua এর 80 নং লাইনে: module 'মডিউল:উদ্ধৃতি/রূপরেখা' not found।
  2. ISBN 978-98404-12860