বিষয়বস্তুতে চলুন

এ টেল অব টু সিটিজ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বইপিডিয়া থেকে
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা
Encyclopedist (আলাপ)-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে ARI-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে
ট্যাগ: প্রতিস্থাপিত পুনর্বহাল মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা
 
(২ জন ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত ৬টি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না)
১৯ নং লাইন: ১৯ নং লাইন:
উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ১৭৭৫ সাল থেকে শুরু করে ফরাসি বিপ্লবের উত্তাল সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। কাহিনিটি ডাক্তার ম্যানেট নামক এক ফরাসি চিকিৎসককে ঘিরে শুরু হয়, যিনি দীর্ঘ ১৮ বছর কোনো বিচার ছাড়াই প্যারিসের বাস্তিল দুর্গে বন্দী ছিলেন। মুক্তির পর তিনি লন্ডনে তাঁর মেয়ে লুসির সাথে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে কাহিনিতে চার্লস ডার্নে এবং সিডনি কার্টন নামক দুই ভিন্ন চরিত্রের আগমন ঘটে, যারা দুজনেই লুসিকে ভালোবাসেন। বিপ্লবের ভয়াবহতা, অভিজাতদের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা, নির্দোষ মানুষের দুর্ভোগ এবং ভালোবাসার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক অনন্য আখ্যান এই উপন্যাস।
উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ১৭৭৫ সাল থেকে শুরু করে ফরাসি বিপ্লবের উত্তাল সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। কাহিনিটি ডাক্তার ম্যানেট নামক এক ফরাসি চিকিৎসককে ঘিরে শুরু হয়, যিনি দীর্ঘ ১৮ বছর কোনো বিচার ছাড়াই প্যারিসের বাস্তিল দুর্গে বন্দী ছিলেন। মুক্তির পর তিনি লন্ডনে তাঁর মেয়ে লুসির সাথে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে কাহিনিতে চার্লস ডার্নে এবং সিডনি কার্টন নামক দুই ভিন্ন চরিত্রের আগমন ঘটে, যারা দুজনেই লুসিকে ভালোবাসেন। বিপ্লবের ভয়াবহতা, অভিজাতদের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা, নির্দোষ মানুষের দুর্ভোগ এবং ভালোবাসার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক অনন্য আখ্যান এই উপন্যাস।
== প্রকাশনা ইতিহাস ==
== প্রকাশনা ইতিহাস ==
'এ টেল অব টু সিটিজ' প্রথমে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। এটি ডিকেন্সের নিজস্ব সাহিত্য পত্রিকা 'অল দ্য ইয়ার রাউন্ড' (All the Year Round)-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৮৫৯ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৩১টি সাপ্তাহিক কিস্তিতে এটি বের হয়। পরবর্তীতে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। এটি ডিকেন্সের লেখা দুটি ঐতিহাসিক উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম (অন্যটি হলো 'বার্নাবি রাজ')।
''এ টেল অব টু সিটিজ'' প্রথমে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। এটি ডিকেন্সের নিজস্ব সাহিত্য পত্রিকা ''অল দ্য ইয়ার রাউন্ড''-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৮৫৯ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৩১টি সাপ্তাহিক কিস্তিতে এটি বের হয়। পরবর্তীতে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। এটি ডিকেন্সের লেখা দুটি ঐতিহাসিক উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম (অন্যটি হলো ''বার্নাবি রাজ'')।
 
== প্রধান চরিত্র ==
== প্রধান চরিত্র ==
উপন্যাসটির কাহিনি বিভিন্ন জটিল মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে:
উপন্যাসটির কাহিনি বিভিন্ন জটিল মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে:
'''সিডনি কার্টন:''' একজন হতাশাগ্ৰস্ত ও মদ্যপ ইংরেজ আইনজীবী, যিনি শেষ পর্যন্ত প্রেমের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন।
*'''সিডনি কার্টন:''' একজন হতাশাগ্ৰস্ত ও মদ্যপ ইংরেজ আইনজীবী, যিনি শেষ পর্যন্ত প্রেমের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন।
'''চার্লস ডার্নে:''' এক ফরাসি অভিজাত বংশোদ্ভূত যুবক, যিনি নিজের বংশের অত্যাচারী স্বভাব ঘৃণা করে ইংল্যান্ডে চলে আসেন।
*'''চার্লস ডার্নে:''' এক ফরাসি অভিজাত বংশোদ্ভূত যুবক, যিনি নিজের বংশের অত্যাচারী স্বভাব ঘৃণা করে ইংল্যান্ডে চলে আসেন।
'''লুসি ম্যানেট:''' ডাক্তার ম্যানেটের কন্যা, যাকে কেন্দ্র করে ডার্নে ও কার্টনের ভালোবাসা আবর্তিত হয়।
*'''লুসি ম্যানেট:''' ডাক্তার ম্যানেটের কন্যা, যাকে কেন্দ্র করে ডার্নে ও কার্টনের ভালোবাসা আবর্তিত হয়।
'''মাদাম ডিফার্জ:''' বিপ্লবের এক নিষ্ঠুর ও প্রতিহিংসাপরায়ণ নারী চরিত্র।
*'''মাদাম ডিফার্জ:''' বিপ্লবের এক নিষ্ঠুর ও প্রতিহিংসাপরায়ণ নারী চরিত্র।
 
== প্রভাব ও মূল্যায়ন ==
== প্রভাব ও মূল্যায়ন ==
বইটি শুরু হয় সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত বাক্য দিয়ে: "It was the best of times, it was the worst of times..." (সেটি ছিল সুসময়, সেটি ছিল দুঃসময়...)। এই উপন্যাসে ডিকেন্স সমসাময়িক রাজনীতির চেয়ে মানবিক আবেগের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, সিডনি কার্টনের আত্মত্যাগ বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম ট্র্যাজিক ও মহৎ দৃশ্য হিসেবে স্বীকৃত। এটি বহুবার চলচ্চিত্র, টেলিভিশন সিরিজ এবং মঞ্চনাটকে রূপান্তরিত হয়েছে।
বইটি শুরু হয় সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত বাক্য দিয়ে: "It was the best of times, it was the worst of times..." (সেটি ছিল সুসময়, সেটি ছিল দুঃসময়...)। এই উপন্যাসে ডিকেন্স সমসাময়িক রাজনীতির চেয়ে মানবিক আবেগের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, সিডনি কার্টনের আত্মত্যাগ বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম ট্র্যাজিক ও মহৎ দৃশ্য হিসেবে স্বীকৃত। এটি বহুবার চলচ্চিত্র, টেলিভিশন সিরিজ এবং মঞ্চনাটকে রূপান্তরিত হয়েছে।
৩৫ নং লাইন: ৩৭ নং লাইন:


== বহিঃসংযোগ ==
== বহিঃসংযোগ ==
[https://www.gutenberg.org/ebooks/98 এ টেল অব টু সিটিজ - প্রোজেক্ট গুটেনবার্গ (ফ্রি ই-বুক)]
*[https://www.gutenberg.org/ebooks/98 প্রোজেক্ট গুটেনবার্গ (ফ্রি ই-বুক)]
 
== সূত্র ==
== সূত্র ==
<references/>
<references/>

১০:৩০, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

এ টেল অব টু সিটিজ
নাম এ টেল অব টু সিটিজ
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
লেখক চার্লস ডিকেন্স


প্রকাশনা তথ্য
প্রকাশক চ্যাপম্যান অ্যান্ড হল
প্রকাশনার স্থান লন্ডন, যুক্তরাজ্য
প্রকাশনার তারিখ ১৮৫৯
আইএসবিএন 978-0-14-143960-0


বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা ইংরেজি
বিষয় ফরাসি বিপ্লব, সামাজিক অবিচার, আত্মত্যাগ
মিডিয়া ধরন ধারাবাহিক ও হার্ডকভার
পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩৪১ (সংস্করণ ভেদে ভিন্ন)

এ টেল অব টু সিটিজ (ইংরেজি: A Tale of Two Cities) হলো ভিক্টোরিয়ান যুগের বিখ্যাত ইংরেজ ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্স রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। ১৮৫৯ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ফরাসি বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসের কাহিনি লন্ডন এবং প্যারিস—এই দুই শহরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে এটি অন্যতম বহুল পঠিত ও বিক্রিত বই হিসেবে বিবেচিত, যার আনুমানিক ২০০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।

উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ১৭৭৫ সাল থেকে শুরু করে ফরাসি বিপ্লবের উত্তাল সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। কাহিনিটি ডাক্তার ম্যানেট নামক এক ফরাসি চিকিৎসককে ঘিরে শুরু হয়, যিনি দীর্ঘ ১৮ বছর কোনো বিচার ছাড়াই প্যারিসের বাস্তিল দুর্গে বন্দী ছিলেন। মুক্তির পর তিনি লন্ডনে তাঁর মেয়ে লুসির সাথে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে কাহিনিতে চার্লস ডার্নে এবং সিডনি কার্টন নামক দুই ভিন্ন চরিত্রের আগমন ঘটে, যারা দুজনেই লুসিকে ভালোবাসেন। বিপ্লবের ভয়াবহতা, অভিজাতদের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা, নির্দোষ মানুষের দুর্ভোগ এবং ভালোবাসার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক অনন্য আখ্যান এই উপন্যাস।

প্রকাশনা ইতিহাস

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

এ টেল অব টু সিটিজ প্রথমে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। এটি ডিকেন্সের নিজস্ব সাহিত্য পত্রিকা অল দ্য ইয়ার রাউন্ড-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৮৫৯ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৩১টি সাপ্তাহিক কিস্তিতে এটি বের হয়। পরবর্তীতে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। এটি ডিকেন্সের লেখা দুটি ঐতিহাসিক উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম (অন্যটি হলো বার্নাবি রাজ)।

প্রধান চরিত্র

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

উপন্যাসটির কাহিনি বিভিন্ন জটিল মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে:

  • সিডনি কার্টন: একজন হতাশাগ্ৰস্ত ও মদ্যপ ইংরেজ আইনজীবী, যিনি শেষ পর্যন্ত প্রেমের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন।
  • চার্লস ডার্নে: এক ফরাসি অভিজাত বংশোদ্ভূত যুবক, যিনি নিজের বংশের অত্যাচারী স্বভাব ঘৃণা করে ইংল্যান্ডে চলে আসেন।
  • লুসি ম্যানেট: ডাক্তার ম্যানেটের কন্যা, যাকে কেন্দ্র করে ডার্নে ও কার্টনের ভালোবাসা আবর্তিত হয়।
  • মাদাম ডিফার্জ: বিপ্লবের এক নিষ্ঠুর ও প্রতিহিংসাপরায়ণ নারী চরিত্র।

প্রভাব ও মূল্যায়ন

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বইটি শুরু হয় সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত বাক্য দিয়ে: "It was the best of times, it was the worst of times..." (সেটি ছিল সুসময়, সেটি ছিল দুঃসময়...)। এই উপন্যাসে ডিকেন্স সমসাময়িক রাজনীতির চেয়ে মানবিক আবেগের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, সিডনি কার্টনের আত্মত্যাগ বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম ট্র্যাজিক ও মহৎ দৃশ্য হিসেবে স্বীকৃত। এটি বহুবার চলচ্চিত্র, টেলিভিশন সিরিজ এবং মঞ্চনাটকে রূপান্তরিত হয়েছে।