গীতাঞ্জলি: সং অফারিংস: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য
সম্পাদনা সারাংশ নেই |
খাত্তাব হাসান (আলোচনা | অবদান) অ ১০টি সংস্করণ আমদানি করা হয়েছে: পুরাতন উইকি থেকে আমদানি |
||
| (একজন ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত ৫টি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না) | |||
| ১ নং লাইন: | ১ নং লাইন: | ||
[[চিত্র:Gitanjali title page Rabindranath Tagore.jpg|thumb|right|alt=Close-up of yellowed title page in an old book: "Gitanjali (Song Offerings) by Rabindranath Tagore. A collection of prose translations made by the author from the original Bengali with an introduction by W. B. Yeats. Macmillan and Co., Limited, St. Martin's Street, London, 1913." | ''গীতাঞ্জলি: সং অফারিংস''-এর প্রথম ম্যাকমিলান সংস্করণের প্রচ্ছদ, ১৯১৩]] | |||
'''''গীতাঞ্জলি: সং অফারিংস''''' ([[ইংরেজি]]: ''Gitanjali - Song Offerings'') ইংরেজি ভাষায় অনূদিত রবীন্দ্রনাথের প্রথম সংকলনগ্রন্থ। এর কবিতাগুলি পাশ্চাত্যে খুবই সমাদৃত হয়। কিন্তু গ্রন্থদুটির নাম অভিন্ন হলেও ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে বাংলা ''গীতাঞ্জলি'র'' একচ্ছত্র আধিপত্য নেই। রবীন্দ্রনাথ বাংলা ''গীতাঞ্জলি'র'' ১৫৭টি গান ও কবিতা থেকে ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে সং অফারিংস মাত্র ৫৩টি স্থান দিয়েছেন। বাকি ৫০টি বেছে নিয়েছেন ''[[গীতিমাল্য]]'', ''[[নৈবেদ্য]]'', ''[[খেয়া]]'', ''শিশু'', ''[[কল্পনা]]'', ''[[চৈতালি]]'', ''[[উৎসর্গ]]'', ''[[স্মরণ]]'' ও ''[[অচলায়তন]]'' থেকে। [[গীতিমাল্য]] থেকে ১৬টি, নৈবেদ্য থেকে ১৫টি, [[খেয়া]] থেকে ১১টি, শিশু থেকে ৩টি, কল্পনা থেকে ১টি, [[চৈতালি]] থেকে ১টি, [[উৎসর্গ]] থেকে ১টি, [[স্মরণ]] থেকে ১টি এবং [[অচলায়তন]] থেকে ১টি কবিতা ও গান নিয়ে ইংরেজি গীতাঞ্জলির বিন্যাস করেছেন। অর্থাৎ ইংরেজি [[গীতাঞ্জলি|গীতাঞ্জলিতে]] তিনি মোট ৯টি গ্রন্থের কবিতা বা গানের সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। | |||
== অনুবাদের ইতিহাস == | == অনুবাদের ইতিহাস == | ||
১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে রবীন্দ্রনাথের জাহাজযোগে লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল। যাত্রার পূর্বে তিনি অর্শ রোগের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পদ্মা নদীতে নৌকায় বিশ্রাম নিতে শুরু করেন। এ সময় তিনি তার গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ থেকে সহজ ইংরেজিতে অনুবাদ শুরু করেন। পরবর্তীকালে গীতাঞ্জলি ৫৩টি এবং গীতিমাল্য, নৈবেদ্য, খেয়া প্রভৃতি আরো নয়টি কাব্যগন্থ থেকে ৫০টি - সর্বমোট ১০৩টি কবিতার অনুবাদ নিয়ে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। এই পাণ্ডুলিপি সঙ্গে করে রবীন্দ্রনাথ | ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে রবীন্দ্রনাথের জাহাজযোগে লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল। যাত্রার পূর্বে তিনি অর্শ রোগের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পদ্মা নদীতে নৌকায় বিশ্রাম নিতে শুরু করেন। এ সময় তিনি তার গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ থেকে সহজ ইংরেজিতে অনুবাদ শুরু করেন। পরবর্তীকালে গীতাঞ্জলি ৫৩টি এবং গীতিমাল্য, নৈবেদ্য, খেয়া প্রভৃতি আরো নয়টি কাব্যগন্থ থেকে ৫০টি - সর্বমোট ১০৩টি কবিতার অনুবাদ নিয়ে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। এই পাণ্ডুলিপি সঙ্গে করে রবীন্দ্রনাথ | ||
| ২৫ নং লাইন: | ২৫ নং লাইন: | ||
</ref> | </ref> | ||
== নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি == | |||
১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থের জন্য তিনি [[সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার]] অর্জন করেন। ইংরেজ লেখক এবং রয়্যাল সোসাইটির সদস্য [[স্টার্জ মুর]] [[নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কারের]] জন্য রবীন্দ্রনাথকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এই মনোনয়ন [[সুইডিশ একাডেমী|সুইডিশ একাডেমীকে]] বিস্মিত করেছিল। তবে একাডেমীর সদস্য [[পার হলস্টর্ম]] রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ফরাসি লেখক [[এমিল ফগ]]। তবে আরেকজন একাডেমী সদস্য [[ভার্নার লন হেইডেনস্টাম]] রবীন্দ্রনাথের পক্ষে প্রশস্তিপূর্ণ এমন জোরালো ও লিখিত বক্তব্য দেন যাতে সকল সংশয়ের অবসান হয় এবং রবীন্দ্রনাথকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বর বুধবার সাহিত্যে নোবেল ঘোষণা করা হয়। পর দিন খবরটি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মুদ্রিত হয় ; কিন্তু তা বিলম্বে কলকাতায় পৌঁছে। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তারবার্তার মাধ্যমে খবর আসে যে রবীন্দ্রনাথকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। গীতাঞ্জলি (১৯১২) সহ সেই সময় সামান্য যে কিছু রবীন্দ্ররচনার অনুবাদ পাশ্চাত্য পাঠক মহলে পরিচিতি লাভ করেছিল, পুরস্কারের ঘোষণাপত্রে সেসবের ভূয়সী প্রশংসা করে সুইডিশ আকাদেমি। | ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থের জন্য তিনি [[সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার]] অর্জন করেন। ইংরেজ লেখক এবং রয়্যাল সোসাইটির সদস্য [[স্টার্জ মুর]] [[নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কারের]] জন্য রবীন্দ্রনাথকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এই মনোনয়ন [[সুইডিশ একাডেমী|সুইডিশ একাডেমীকে]] বিস্মিত করেছিল। তবে একাডেমীর সদস্য [[পার হলস্টর্ম]] রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ফরাসি লেখক [[এমিল ফগ]]। তবে আরেকজন একাডেমী সদস্য [[ভার্নার লন হেইডেনস্টাম]] রবীন্দ্রনাথের পক্ষে প্রশস্তিপূর্ণ এমন জোরালো ও লিখিত বক্তব্য দেন যাতে সকল সংশয়ের অবসান হয় এবং রবীন্দ্রনাথকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বর বুধবার সাহিত্যে নোবেল ঘোষণা করা হয়। পর দিন খবরটি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মুদ্রিত হয় ; কিন্তু তা বিলম্বে কলকাতায় পৌঁছে। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তারবার্তার মাধ্যমে খবর আসে যে রবীন্দ্রনাথকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। গীতাঞ্জলি (১৯১২) সহ সেই সময় সামান্য যে কিছু রবীন্দ্ররচনার অনুবাদ পাশ্চাত্য পাঠক মহলে পরিচিতি লাভ করেছিল, পুরস্কারের ঘোষণাপত্রে সেসবের ভূয়সী প্রশংসা করে সুইডিশ আকাদেমি। | ||
== তথ্যসূত্র == | == তথ্যসূত্র == | ||
<references /> | <references /> | ||
[[বিষয়শ্রেণী:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনাবলী]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি রচনাবলি]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার]] | |||