শেষের কবিতা: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য
"শেষের কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস" দিয়ে পাতা তৈরি |
খাত্তাব হাসান (আলোচনা | অবদান) অ ৭টি সংস্করণ আমদানি করা হয়েছে: পুরাতন উইকি থেকে আমদানি |
||
| (একজন ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত ৬টি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না) | |||
| ১ নং লাইন: | ১ নং লাইন: | ||
শেষের কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস | {{Infobox book | ||
| name = শেষের কবিতা | |||
| image = শেষের কবিতার প্রচ্ছদ.jpg | |||
| caption = শেষের কবিতার প্রচ্ছদ | |||
| author = [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]] | |||
| title_orig = শেষের কবিতা | |||
| translator = | |||
| illustrator = | |||
| cover_artist = | |||
| language = [[বাংলা ভাষা|বাংলা]] | |||
| series = | |||
| subject = রোমান্টিক | |||
| genre = উপন্যাস | |||
| publisher = | |||
| pub_date = {{শুরুর তারিখ ও বয়স|১৯২৮}} | |||
| english_pub_date = | |||
| media_type = | |||
| pages = | |||
| isbn = | |||
| oclc = | |||
| dewey = | |||
| congress = | |||
| preceded_by = | |||
| followed_by = | |||
}} | |||
'''শেষের কবিতা''' [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]] রচিত একটি উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথের চিত্রসৃষ্টি পর্যায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস (প্রথমটি [[যোগাযোগ (উপন্যাস)|যোগাযোগ]]) এটা। ১৯২৭ সালের (১৩৩৪ বঙ্গাব্দের [[ভাদ্র]]) থেকে ১৯২৮ সাল (১৩৩৪ বঙ্গাব্দের [[চৈত্র]]) পর্যন্ত [[প্রবাসী (পত্রিকা)|প্রবাসীতে]] ধারাবাহিকভাবে রচনাটি প্রকাশিত হয়। | |||
== পটভূমি == | |||
শেষের কবিতা বিংশ শতকের [[বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি|বাংলার]] নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা। ব্যক্তি মানুষের মূল্যচেতনার উপাদান যদি অন্তর থেকে শুধুই বার হয়ে আসতে থাকে - যার সমুন্নতি ও দীপ্তি বিদ্যার বৃহৎ পরিমার্জনায়, তারও একটা চরিত্র আছে। বাস্তব চেনাশোনার চলা বাহ্যিক অভিজ্ঞতার জগৎ থেকে তা একেবারে অন্তর অভিমুখী। এই নবতর চেতনার অদ্ভুত আবিষ্কার এই উপন্যাস রচনার কাছাকাছি সময়ে। রবীন্দ্রনাথের অঙ্কিত এই পর্বের দু-একটি মুখাবয়বে কল্পনার প্রাধান্য লক্ষণীয়।<ref>চিত্রসৃষ্টি পর্বের উপন্যাস 'শেষের কবিতা'- অগ্নিমিত্র ঘোষ, রবীন্দ্র-সংখ্যা, পশ্চিমবঙ্গ,১৯৯৫।</ref> | |||
লেখা ও প্রকাশের দিক থেকে শেষের কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দশম উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি লেখেন ১৯২৮ সালে ব্যাঙ্গালোরে, স্বাস্থ্য উদ্ধারের প্রয়াসে সেখানে থাকবার সময়ে। শেষের কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় প্রবাসী’তে, ধারাবাহিকভাবে ভাদ্র থেকে চৈত্র পর্যন্ত। অনেকে একে কবিতার বই ভেবে ভুল করে। আদতে এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম রোমান্টিক উপন্যাস ।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.priyo.com/articles/%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA|শিরোনাম=রবি ঠাকুরের শেষের কবিতা- একটি অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প|ওয়েবসাইট=প্রিয়.কম|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2019-08-07|আর্কাইভের-তারিখ=২০২০-১১-০২|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20201102081025/https://www.priyo.com/articles/%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> | |||
== বিষয়বস্তু == | |||
বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার অমিত রায় ('অমিট্ রে') প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত এবং রোমান্টিক যুবক। তর্কে প্রতিপক্ষকে হারাতে সিদ্ধহস্ত। এই অমিত একবার [[শিলং]] পাহাড়ে গেল বেড়াতে। আর সেখানেই এক মোটর-দুর্ঘটনায় পরিচয় ঘটলো লাবণ্যের সাথে। যার পরিণয়ে এল প্রেম। কিন্তু অচিরেই বাস্তববাদী লাবণ্য বুঝতে পারল অমিত একেবারে রোমান্টিক জগতের মানুষ যার সঙ্গে প্রতিদিনের সাংসারিক হিসেব-নিকাশ চলে না। ইতোমধ্যে শিলং এ হাজির হয় কেটি (কেতকী)। হাতে অমিতের দেওয়া আংটি দেখিয়ে তাকে নিজের বলে দাবী করে সে। ভেঙে যায় লাবণ্য-অমিতর বিবাহ-আয়োজন। শেষ পর্যন্ত অমিত স্বীকার করে যে, লাবণ্যের সাথে তাঁর প্রেম যেন দিঘির জল, সে জল ঘরে আনবার নয়, সেই জলে মন তার সাঁতার দেবে। আর কেতকীর সাথে সম্পর্ক গড়ায় তোলা জল- প্রতিদিন তুলবে, প্রতিদিন ব্যবহার করবে। | |||
== চরিত্র == | |||
* ''অমিত রায়:'' শেষের কবিতার প্রধান চরিত্র অমিত রায়। অমিতর মধ্যে যেটি প্রবল সেটি হল প্রগল্ভতা। সেটিই তার ছদ্মবেশ। সে কবি বা আর্টিস্ট কোনটাই নয়, আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্যেই তাকে এই মুখোশ পরতে হয়েছে। 'রবিবার' গল্পের অভীক এবং 'প্রগতি সংহার' গল্পের নীহারের সঙ্গে অমিতর স্বভাবের একটা মিল আছে। | |||
* ''কেটি:'' অমিতের সহচর কেটি অর্থাৎ কেতকী। আর্বানিটির আড়ষ্ট কৃত্রিমতা নিয়ে সে একেবারে ভিন্ন জাতের। তাঁর মুখের মধ্যে একটা শ্রেণীজ্ঞাপক মুখোশের লক্ষণ বর্তমান। | |||
* অবনীশ দত্ত, লাবণ্য, শোভনলাল, যতিশঙ্করকে নিয়ে যথার্থ আভিজাত্যের পরিচয়টি সম্পূর্ণ হয়েছে বিদ্যাপরিমার্জিত অন্তর্জিজ্ঞাসু প্রবণতায়। | |||
* শুধু যোগমায়া এদের দুই শ্রেণীর থেকে একেবারে আলাদা, উনিশ শতকীয় জীবন ঐতিহ্যের নিশ্চিত দিশারী সে। | |||
== কাব্য সৌন্দর্য == | |||
রবীন্দ্রনাথের শেষজীবনে ছবি আঁকার কালে কথাসাহিত্যের চিত্রধর্মে কিছু কিছু নূতনত্ব দেখা গেছে। কলমের স্বল্প আঁচড়ে বক্তব্যকে নিশ্চিতভাবে চোখের সামগ্রী করে তোলার এক বিশেষ ঝোঁক এবং সেই সঙ্গে দক্ষতা। | |||
*" অমিত বলে, ফ্যাশানটা হল মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী। ওর মতে, যারা সাহিত্যের ওমরাও দলের, যারা নিজের মন রেখে চলে, স্টাইল তাদেরই। আর যারা আমলা দলের, দশের মন রাখা যাদের ব্যবসা, ফ্যাশান তাদেরই। ... কানাত হলো ফ্যাশানের, বেনারসি হলো স্টাইলের - বিশেষের মুখ বিশেষ রঙের ছায়ায় দেখবার জন্যে।" | |||
*" কমল-হীরের পাথরটাকে বলে বিদ্যে, আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে পড়ে ,তাকে বলে কালচার। পাথরের ভার আছে, আলোর আছে দীপ্তি।" | |||
*" সায়াহ্নের এই পৃথিবী যেমন অস্ত-রশ্মি-উদ্ভাসিত আকাশের দিকে নি:শব্দে আপন মুখ তুলে ধরেছে, তেমনি নীরবে, তেমনি শান্ত দীপ্তিতে লাবণ্য আপন মুখ তুলে ধরলে অমিতের নতমুখের দিকে।" | |||
*" সেইখানে পশ্চিমের দিকে মুখ করে দুজনে দাঁড়ালো। অমিত লাবণ্যের মাথা বুকে টেনে নিয়ে তার মুখটি উপরে তুলে ধরল। লাবণ্যের চোখ অর্ধেক বোজা, কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।"<ref>'শেষের কবিতা' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর</ref> | |||
== আরও দেখুন == | |||
{{উইকিসংকলন|শেষের কবিতা}} | |||
== তথ্যসূত্র == | |||
{{সূত্র তালিকা}} | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার উপন্যাস]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ভারতীয় উপন্যাস]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় উপন্যাস]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৯-এর উপন্যাস]] | |||
১৬:৪২, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ
শেষের কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথের চিত্রসৃষ্টি পর্যায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস (প্রথমটি যোগাযোগ) এটা। ১৯২৭ সালের (১৩৩৪ বঙ্গাব্দের ভাদ্র) থেকে ১৯২৮ সাল (১৩৩৪ বঙ্গাব্দের চৈত্র) পর্যন্ত প্রবাসীতে ধারাবাহিকভাবে রচনাটি প্রকাশিত হয়।
পটভূমি
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]শেষের কবিতা বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা। ব্যক্তি মানুষের মূল্যচেতনার উপাদান যদি অন্তর থেকে শুধুই বার হয়ে আসতে থাকে - যার সমুন্নতি ও দীপ্তি বিদ্যার বৃহৎ পরিমার্জনায়, তারও একটা চরিত্র আছে। বাস্তব চেনাশোনার চলা বাহ্যিক অভিজ্ঞতার জগৎ থেকে তা একেবারে অন্তর অভিমুখী। এই নবতর চেতনার অদ্ভুত আবিষ্কার এই উপন্যাস রচনার কাছাকাছি সময়ে। রবীন্দ্রনাথের অঙ্কিত এই পর্বের দু-একটি মুখাবয়বে কল্পনার প্রাধান্য লক্ষণীয়।[১]
লেখা ও প্রকাশের দিক থেকে শেষের কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দশম উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি লেখেন ১৯২৮ সালে ব্যাঙ্গালোরে, স্বাস্থ্য উদ্ধারের প্রয়াসে সেখানে থাকবার সময়ে। শেষের কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় প্রবাসী’তে, ধারাবাহিকভাবে ভাদ্র থেকে চৈত্র পর্যন্ত। অনেকে একে কবিতার বই ভেবে ভুল করে। আদতে এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম রোমান্টিক উপন্যাস ।[২]
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার অমিত রায় ('অমিট্ রে') প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত এবং রোমান্টিক যুবক। তর্কে প্রতিপক্ষকে হারাতে সিদ্ধহস্ত। এই অমিত একবার শিলং পাহাড়ে গেল বেড়াতে। আর সেখানেই এক মোটর-দুর্ঘটনায় পরিচয় ঘটলো লাবণ্যের সাথে। যার পরিণয়ে এল প্রেম। কিন্তু অচিরেই বাস্তববাদী লাবণ্য বুঝতে পারল অমিত একেবারে রোমান্টিক জগতের মানুষ যার সঙ্গে প্রতিদিনের সাংসারিক হিসেব-নিকাশ চলে না। ইতোমধ্যে শিলং এ হাজির হয় কেটি (কেতকী)। হাতে অমিতের দেওয়া আংটি দেখিয়ে তাকে নিজের বলে দাবী করে সে। ভেঙে যায় লাবণ্য-অমিতর বিবাহ-আয়োজন। শেষ পর্যন্ত অমিত স্বীকার করে যে, লাবণ্যের সাথে তাঁর প্রেম যেন দিঘির জল, সে জল ঘরে আনবার নয়, সেই জলে মন তার সাঁতার দেবে। আর কেতকীর সাথে সম্পর্ক গড়ায় তোলা জল- প্রতিদিন তুলবে, প্রতিদিন ব্যবহার করবে।
চরিত্র
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- অমিত রায়: শেষের কবিতার প্রধান চরিত্র অমিত রায়। অমিতর মধ্যে যেটি প্রবল সেটি হল প্রগল্ভতা। সেটিই তার ছদ্মবেশ। সে কবি বা আর্টিস্ট কোনটাই নয়, আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্যেই তাকে এই মুখোশ পরতে হয়েছে। 'রবিবার' গল্পের অভীক এবং 'প্রগতি সংহার' গল্পের নীহারের সঙ্গে অমিতর স্বভাবের একটা মিল আছে।
- কেটি: অমিতের সহচর কেটি অর্থাৎ কেতকী। আর্বানিটির আড়ষ্ট কৃত্রিমতা নিয়ে সে একেবারে ভিন্ন জাতের। তাঁর মুখের মধ্যে একটা শ্রেণীজ্ঞাপক মুখোশের লক্ষণ বর্তমান।
- অবনীশ দত্ত, লাবণ্য, শোভনলাল, যতিশঙ্করকে নিয়ে যথার্থ আভিজাত্যের পরিচয়টি সম্পূর্ণ হয়েছে বিদ্যাপরিমার্জিত অন্তর্জিজ্ঞাসু প্রবণতায়।
- শুধু যোগমায়া এদের দুই শ্রেণীর থেকে একেবারে আলাদা, উনিশ শতকীয় জীবন ঐতিহ্যের নিশ্চিত দিশারী সে।
কাব্য সৌন্দর্য
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]রবীন্দ্রনাথের শেষজীবনে ছবি আঁকার কালে কথাসাহিত্যের চিত্রধর্মে কিছু কিছু নূতনত্ব দেখা গেছে। কলমের স্বল্প আঁচড়ে বক্তব্যকে নিশ্চিতভাবে চোখের সামগ্রী করে তোলার এক বিশেষ ঝোঁক এবং সেই সঙ্গে দক্ষতা।
- " অমিত বলে, ফ্যাশানটা হল মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী। ওর মতে, যারা সাহিত্যের ওমরাও দলের, যারা নিজের মন রেখে চলে, স্টাইল তাদেরই। আর যারা আমলা দলের, দশের মন রাখা যাদের ব্যবসা, ফ্যাশান তাদেরই। ... কানাত হলো ফ্যাশানের, বেনারসি হলো স্টাইলের - বিশেষের মুখ বিশেষ রঙের ছায়ায় দেখবার জন্যে।"
- " কমল-হীরের পাথরটাকে বলে বিদ্যে, আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে পড়ে ,তাকে বলে কালচার। পাথরের ভার আছে, আলোর আছে দীপ্তি।"
- " সায়াহ্নের এই পৃথিবী যেমন অস্ত-রশ্মি-উদ্ভাসিত আকাশের দিকে নি:শব্দে আপন মুখ তুলে ধরেছে, তেমনি নীরবে, তেমনি শান্ত দীপ্তিতে লাবণ্য আপন মুখ তুলে ধরলে অমিতের নতমুখের দিকে।"
- " সেইখানে পশ্চিমের দিকে মুখ করে দুজনে দাঁড়ালো। অমিত লাবণ্যের মাথা বুকে টেনে নিয়ে তার মুখটি উপরে তুলে ধরল। লাবণ্যের চোখ অর্ধেক বোজা, কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।"[৩]